রোজার শুরু থেকেই শ্রীমঙ্গলে বেড়েছে লেবুর দাম। সপ্তাহখানেক আগে যে লেবুর দাম ছিল ৫ থেকে ১০ টাকা, এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। এ কারণে দাম একলাফে বেড়েছে’। সাধারণত রোজার সময় লেবুর চাহিদা বেশি থাকে। হঠাৎ লেবুর অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের পাইকারি হাট নতুনবাজার ঘুরে এমন চড়া দামে লেবু বিক্রি হতে দেখা যায়। লেবুর জাত ও সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করছেন বিক্রেতারা। জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে মাঝারি আকারের লেবু প্রতি হালির দাম ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকা। অন্যদিকে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। আগে তা ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। খুচরা লেবু বিক্রেতা সুবাস দাশ বলেন, এখন গাছে ফল নাই যার কারণে বাজারে দাম বেশি। নতুন বাজারের লেবু ব্যবসায়ী মা বাণিজ্যালয়ের রাজিব আহমেদ জানান, শ্রীমঙ্গলে যতগুলো লেবু বাগান আছে প্রত্যেকটি বাগানে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর লেবুর সংখ্যা খুবই কম। সে কারণে হঠাৎ করে লেবুর দাম বাড়ছে। বৃষ্টি হলে হয়তো দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বর্তমানে লেবুর বাজারমূল্য অনেক বাড়তি। বাজারে লেবুর পিস সর্বনিম্ন ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একই সড়কের লেবু ব্যবসায়ী আল আরাফাহ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী হাজী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বর্ষার সময় লেবুর দাম খুবই কম ছিল। তখন বাগান মালিকরা গাছে সার প্রয়োগ করতে পারেনি। যারা নিজের পুঁজি খাটিয়ে সার প্রয়োগ বা খরার কারণে সেচ দিয়েছে। এরাই এখন লেবু বিক্রি করছে। আরেক লেবু ব্যবসায়ী খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফ খান সাফি জানান, প্রত্যেক বছরে এই সময়ে মানে ফাল্গুন মাসে লেবুর দাম বাড়তি থাকে। বছরের ৩–৪ মাস লেবুর দাম থাকে এরপর আর লেবুর দাম থাকে না। তখন দুই হাজার লেবু বিক্রি হয় ১০০০ থেকে ১১০০। ক্রেতা হেলাল মিয়া জানান, ১০০ টাকা দিয়ে এক হালি লেবু কিনেছি। অথচ কিছুদিন আগে একই লেবু ৫০ টাকা হালি ছিল। শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আলাউদ্দিন বলেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়। এ সময় বাজারে লেবুর সরবরাহ কমই থাকে। রমজানে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দাম বেড়েছে।