শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে ডাকাতির চেষ্টার সময় গণপিটুনির শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ডাকাতদের সঙ্গে থাকা পালং মডেল থানা পুলিশের উপ–পরিদর্শক আসাদুজ্জামান। তবে নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে রিপন ও সজিব তালুকদার গণপিটুনির শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। সবশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অজ্ঞাতনামা আরও এক ডাকাত সদস্য। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে একদল ডাকাত মাদারীপুরের রাজারচর এলাকায় বাল্কহেডে ডাকাতির চেষ্টা করেন। পরে তাদের ধাওয়া দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় ডাকাতরা পালিয়ে শরীয়তপুরের তেঁতুলিয়া এলাকায় আসলে স্থানীয়রা বাল্কহেড দিয়ে তাদের স্পিডবোটের গতিপথ রোধ করে। এসময় ডাকাতরা হাতবোমা ও এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আহত হন বেশ কয়েকজন। পরে ডাকাতরা স্পিডবোট ফেলে পালানোর সময় ৭ জনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। ডাকাতদের গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির চেষ্টাকালে গণপিটুনির শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন। এছাড়াও ডাকাতির ঘটনায় একটি ডাকাতি চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে মাদারীপুর–শরীয়তপুর দুই জেলার সীমানায় খোয়াজপুর–টেকেরহাট বন্দরে ডাকাতি করার সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ডাকাত দলের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ডাকাতদের ছোরা গুলিতে দুই জেলায় অন্তত ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে পালানোর সময় ৭ জন ডাকাতকে আটকের পর গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা।