রাজধানী ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনের অধীন খেলার মাঠ স্বল্পতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। দুই দশকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে অসংখ্য মাঠ। যেগুলো টিকে রয়েছে খেলাধুলার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ হারিয়ে ফেলছে। বিভিন্ন স্থানে মাঠ বেদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক দশকে ঢাকা আয়তন ও জনসংখ্যায় বাড়লেও খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে একের পর এক। দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। একের পর এক মাঠ বেদখল হয়ে নির্মাণ হচ্ছে বাজার ও নানা স্থাপনা। নগরবিদরা বলছেন, রাজধানীর টিকে থাকা মাঠগুলোও দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে। আবার অনেক মাঠের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বও রয়েছে। একটি খোলা জায়গায় সরকারি আরেকটি সংস্থা ভবন নির্মাণ করেছে। কোনো কোনো সরকারি জায়গায়ও বড় বড় ভবন উঠে গেছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা হাজী শফিকুল ইসলাম বলেন, একসময় পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেকগুলো মাঠ ছিলো। এসব মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করতাম। খেলার মাঠ ছাড়াও অনেক জায়গা ফাঁকা ছিলো এসব স্থানেও খেলাধুলা করতাম। সময়ের পরিবর্তনে সব কিছুতে পরিবর্তন এসেছে। খালি জায়গায় বড় বড় ভবন উঠেছে। খেলার মাঠগুলো যেন বিল্ডিংয়ের নিচে চাপা পড়েছে। নতুন প্রজন্মকে এখানে একটি মাঠ ছিলো বললে তারা এখন বিশ্বাস করতে চায় না।
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতে প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান। অথচ ঢাকা শহরে উন্মুক্ত স্থান রয়েছে জনপ্রতি ০ দশমিক ১ বর্গমিটারেরও কম। গত ২০ বছরে ঢাকা শহর থেকে ১২৬টি মাঠ হারিয়ে গেছে। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাঠ–পার্ক তৈরির প্রস্তাবনা রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়ন যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ বিষয়। শিশুসহ সকল এলাকাবাসীর খেলাধুলা ও সামাজিকীকরণের সুযোগ সৃষ্টিতে এলাকার অভ্যন্তরে কম ব্যস্ত সড়কে নির্দিষ্ট সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে বা নিয়ন্ত্রণ করে গাড়িমুক্ত সড়ক আয়োজন কার্যকরী উদ্যোগ।
গতকাল শুক্রবার প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার সম্মিলিত উদ্যোগে এবং পদ্মনিধি সমাজকল্যান সংঘ এর সার্বিক সহযোগিতায় লিয়াকত চেয়ারম্যান এর বাড়ির সামনে, পদ্মনিধি লেন, ওয়ারী এলাকায় গাড়িমুক্ত সড়ক উদ্বোধন করা হয়। প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ সড়কে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ছবি আঁকা, দাবা, লুডু, ক্যারাম, দড়ি লাফ, ব্যাডমিন্টন, ক্রাফটিং এর কাজ শিখানোসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
আয়োজনে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মিঠুন এর সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি হাজী লিয়াকত আলী, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সভাপতির উপস্থিতিতে গাড়িমুক্ত সড়ক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপন্থিত ছিলেন প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন এর সাধারন সম্পাদক হেলাল আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রকল্প প্রধান সৈয়দা অনন্যা রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন ৪১ নং ওয়ার্ড, পদ্মনিধি লেন এর এলাকাবাসী এবং শতাধিক শিশু–কিশোর।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রকল্প প্রধান সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, আমাদের বর্তমান এবং আগামীর প্রজন্মকে স¦াভাবিক ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে হলে আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। শহর এলাকায় খেলার মাঠ–পার্কের স্বল্পতার কারণে প্রতিনিয়ত শিশুদেরকে বিভিন্ন রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই ধরণের সমস্যা সমাধানের জন্য শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ণের পাশাপাশি প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। নিয়মিত গাড়িমুক্ত সড়ক আয়োজনের মাধ্যমে খুব সহজেই সকল বয়সের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেয়া সম্ভব। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে।
প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ বলেন, শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত, তাদেরকে সুস্থ রাখা, ভালো একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। শিশুদের ঘরবন্দী রেখে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের প্রতি অভ্যস্ততা কমাতে প্রতিটি এলাকায় একটি কম ব্যস্ত সড়কে গাড়িমুক্ত সড়ক এর মতো আয়োজন করে তাদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।