দীর্ঘদিন পর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর আজ নেত্রকোনায় যাচ্ছেন। তার আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আগ্রহ ও আনন্দ বিরাজ করছে। লুৎফুজ্জামান বাবরের নিজ নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনা–৪ (মদন–মোহনগঞ্জ–খালিয়াজুরী)সহ সারা নেত্রকোনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর বাবরকে কাছে পাওয়ার আনন্দে হাওর এলাকার মানুষ উৎফুল্ল। লুৎফুজ্জামান বাবরের আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আগ্রহ ও আনন্দ দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার থেকে তিনদিন নেত্রকোনা জেলা, মদন, খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ তিন উপজেলায় লুৎফুজ্জামান বাবর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সভা করবেন। পরে আগামী মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন। রোববার সকালে ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে সড়ক পথে নেত্রকোনার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বেলা ৩টায় নেত্রকোনা জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। সভা সঞ্চালনা করবেন জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। সভায় যোগ দেয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু। সভাকে সফল করতে জেলা শহরের মাইকিং করা হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, লুৎফুজ্জামান বাবর সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন নিজ নির্বাচনী এলাকা মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী ও মদন উপজেলাসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যে কারণে তিনি নেত্রকোনাবাসীর কাছে, বিশেষ করে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত তিন উপজেলা– মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী। এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা–৪ আসন। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। হাওরবেষ্টিত জনপদের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় একজন মানুষ। লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নেত্রকোনা–৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা–৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ২৮শে মে আটক হন লুৎফুজ্জামান বাবর। এরপর বিভিন্ন মামলায় তার দণ্ড হয়। এর মধ্যে দু’টি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। একটিতে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে গত বছরের ৫ই আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতন হওয়ার পর এসব মামলার আপিল শুনানি শেষে একে একে সব মামলা থেকে খালাস পান লুৎফুজ্জামান বাবর। এর মধ্যে গত ২৩শে অক্টোবর দুর্নীতির মামলায় আট বছরের দণ্ড থেকে এবং ১লা ডিসেম্বর ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে খালাস পান তিনি। ২১শে আগস্টের মামলায়ও বাবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।