Sunday, August 31, 2025
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
No Result
View All Result

আখেরী মুনাজাত (এম এ ওয়াহাব)

alorfoara by alorfoara
February 15, 2025
in সংখ্যা ১১৬ (১৫-০২-২০২৫), সম্পাদকীয়
0
0
SHARES
Share on FacebookShare on Twitter

যে ব্যক্তি ইতোমধ্যে মানুষ খুন করেছে তার মধ্যে কি এখনও খোদার পাকরূহ বসবাস করছে? সে তো খুনি ইবলিসের দ্বারা সম্পূর্ণভাবে কব্জাগত হয়ে পড়েছে। তার দেহ–মন–আত্মা পরিচালিত হচ্ছে কুলটা শয়তানের মন্ত্রে, মানুষের ক্ষতিসাধন করা ছাড়া খোদার মহিমা তাকে দিয়ে প্রত্যাশা করার কোনো অবকাশ নেই। শয়তানের সাথে খোদার পাকরূহ জুড়ি বাধতে পারে না। তেমন চিন্তা কেবল বেরিয়ে আসে নষ্ট বিবেকের দ্বারা।

 

যদিও পাকরূহের আবির্ভাব হয়েছে জগতের ভুতাশ্রিত লোকদের অবমুক্ত করার জন্য। “ঈসা ও তাঁর সাহাবীরা কফরনাহূম শহরে গেলেন। পরে বিশ্রামবারে ঈসা মজলিস–খানায় গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর শিক্ষায় আশ্চর্য হয়ে গেল, কারণ তিনি আলেমদের মত শিক্ষা দিচ্ছিলেন না বরং যাঁর অধিকার আছে সেই রকম লোকের মতই শিক্ষা দিচ্ছিলেন। সেই সময় ভূতে পাওয়া একজন লোক সেই মজলিস–খানার মধ্যে ছিল। সে চিৎকার করে বলল, “ওহে নাসরতের ঈসা, আমাদের সংগে আপনার কি দরকার? আপনি কি আমাদের সর্বনাশ করতে এসেছেন? আমি জানি আপনি কে; আপনিই তো আল্লাহর সেই পবিত্রজন।”ঈসা তখন সেই ভূতকে ধমক দিয়ে বললেন, “চুপ কর, ওর মধ্য থেকে বের হয়ে যাও।” সেই ভূত তখন লোকটাকে মুচড়ে ধরল এবং জোরে চিৎকার করে তার মধ্য থেকে বের হয়ে গেল। এই ঘটনা দেখে লোকেরা এমন আশ্চর্য হল যে, তারা নিজেদের মধ্যে বলতে লাগল, “এই সব কি ব্যাপার? এই অধিকার–ভরা নতুন শিক্ষাই বা কি? এমন কি, ভূতদেরও তিনি হুকুম দেন আর তারা তাঁর কথা শুনতে বাধ্য হয়” (মার্ক ১ : ২১–২৭)। পাকরূহ বা খোদা হলেন রূহানী সত্ত্বা যা চর্মচোখে প্রত্যক্ষ করার উপায় নেই। মানবরূপে আবির্ভুত খোদার মাধ্যমে মানুষ পাকরূহ এবং খোদাকে দর্শন করতে পারে। যেমন খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ, খোদার কুদরতে কুমারী মরিয়মের জঠরে মানব শিশুরূপে সমাজে হলেন প্রকাশিত, যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম ঐশি বেগুনাহ প্রেমার্দ্র বাস্তব জীবন যাপনের প্রকৃষ্ঠ ছবক। যদিও খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ ধরাপৃষ্ঠে কমবেশি ৩৩ বৎসর ধরে জীবন যাপন করেছেন, তথাপি একটি মানুষের পক্ষে এই পতীত ধরায় নিষ্পাপ কাল কাটানো, অসম্ভব বিষয় সম্ভব করে দেখিয়েছেন; যা হলো অতীব আশ্চর্যের বিষয়। পাকরূহের দ্বারা কেউ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত এমন পূতপবিত্র খোদাই জীবন যাপন করতে পারে না। মানুষের মধ্যে নিয়ত যুদ্ধ করে চলছে দেহের কামনা, চোখের লোভ আর সাংসারিক বিষয়ের অদম্য আকর্ষণ, ব্যক্তির হৃদয়াভ্যন্তরে বাস্তব রয়েছে এমন অপশক্তি যার উপর ভর করে অভিশপ্ত ইবলিস পাকরূহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। মানুষটি হলো চলমান যুদ্ধ ক্ষেত্র। একদিকে অপশক্তি হামলে পড়ছে তার সার্বিক যুদ্ধাশ্র নিয়ে আর একদিকে পাকরূহ তাকে পুনর্গঠনের জন্য অর্থাৎ প্রকৃত মানুষ হিসেবে নতুন জন্ম দান করার জন্য, অর্থাৎ মসীহের রূহ দিবানিশি সাধ্য সাধনা করে চলছেন। যেমন ১৮ বৎসর যাবৎ এক মহিলা ইবলিসের কব্জাবন্দী হবার ফলে কুঁজো হয়ে গিয়েছিল, তাকে মসীহ সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুললেন। “কোন এক বিশ্রামবারে ঈসা একটা মজলিস–খানায় শিক্ষা দিচ্ছিলেন। সেখানে এমন একজন স্ত্রীলোক ছিল যাকে একটা ভূত আঠারো বছর ধরে অসুখে ভোগাচ্ছিল। সে কুঁজা ছিল এবং একেবারেই সোজা হতে পারত না।  ঈসা তাকে দেখলেন এবং তাকে কাছে ডেকে বললেন, “মা, তোমার অসুখ থেকে তুমি মুক্ত হলে।” এই কথা বলে ঈসা তার উপর হাত রাখলেন, আর তখনই সে সোজা হয়ে দাঁড়াল এবং আল্লাহর প্রশংসা করতে লাগল। ঈসা বিশ্রামবারে সুস্থ করেছেন বলে মজলিস–খানার নেতা বিরক্ত হয়ে লোকদের বললেন, “কাজ করবার জন্য ছয় দিন তো আছেই। সেজন্য বিশ্রামবারে না এসে ঐ ছয় দিনের মধ্যে এসে সুস্থ হয়ো।”তখন হযরত ঈসা সেই নেতাকে বললেন, “আপনারা ভন্ড! বিশ্রামবারে আপনারা সবাই কি আপনাদের বলদ বা গাধাকে গোয়াল ঘর থেকে খুলে পানি খাওয়াতে নিয়ে যান না? তবে ইব্রাহিমের বংশের এই যে স্ত্রীলোকটিকে আঠারো বছর ধরে শয়তান বেঁধে রেখেছিল, সেই বাঁধন থেকে বিশ্রামবারের কি তাকে মুক্ত করা উচিত নয়?” তিনি এই কথা বললে পর যারা তাঁর বিরুদ্ধে ছিল তারা সবাই লজ্জা পেল। কিন্তু অন্য লোকেরা তাঁর এই সমস্ত মহান কাজ দেখে আনন্দিত হল ” (লুক ১৩ : ১০–১৭)। এমন কুদরতী কাজ দেখে তাকে প্রশংসা না করে উল্টো আপত্তিজনক অভিযোগ দিলো তদানীন্তন ভ্রান্ত সমাজ, যেমনটা বর্তমানে দেখতে পাই, একটা জঘণ্য নরঘাতী পশুচরিত্রের ব্যক্তিকে সমাজে সাধুসন্ত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে, হচ্ছে সমাদ্রীত। হায়রে অন্ধ ভন্ড সমাজ! যে ব্যক্তির সাথে খোদার প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটেছে তার পক্ষে মানব নিধনস্বরুপ অপকর্মে সামিল হওয়া আর সম্ভব হতে পারে না।

 

মসীহ যেক্ষেত্রে মানুষকে ভালবেসে নিজের প্রাণ পর্যন্ত কোরবানি দিয়েছেন তাদের কৃত পাপ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত পরিশোধকল্পে, তেমন ক্ষেত্রে কোনো খুনী এসে আমাদের বিভ্রান্ত করবে মানুষ কতল করার ফতোয়া দিয়ে, আর আমরা বিনে আপত্তিতে তা মেনে নেব, এমনটি ভাবলো কি করে? কোনো খুনীর মধ্যে আল্লাহ, মসীহ বা পাকরূহ অবস্থান করতে পারে না, তেমন ভাবনা কেবল অবান্তর। বরাবরের অদৃশ্য বা বাতেনী খোদা মানুষকে নিয়ত প্রেরণা দিয়ে আসছেন ন্যায় সত্য সুন্দর প্রেম সহমর্মীতার পথে চলার জন্য। অথচ অভিশপ্ত খুনী ইবলিস এসে মানুষকে জড়ো করলো নগর–জনপদ বিরাণ করার নিমিত্তে, জাগ্রত বিবেক পঁচে না যাওয়া পর্যন্ত তেমন মতবাদ মেনে নিতে বা সহ্য করতে পারে না। মুখে যতোই জিগির তুলুক না কেন, আমি অভিশপ্ত ইবলিসের কবল থেকে সুরক্ষা চাই, হে মাবুদ! এমন প্রার্থনা করার সাথে সাথে উক্ত ইবলিসের ভ্রান্ত শিক্ষামালা জনসমক্ষে জোরালোভাবে ফলাও করে প্রচার করে চলে, আর কতকগুলো আনপড় ব্যক্তি হটকেকের মত তা ভক্তি গদগদ হয়ে তুলে নিল, এমনটি কেবল মিথ্যা আর মিথ্যার প্রচারণা মাত্র। যার যতটুকু সংযোগ রয়েছে প্রেমের পারাবার মাবুদের সাথে, তাকে রুখে দাড়াতে হবে অমন ভন্ড প্রচারক দলের বিরুদ্ধে। মসীহ চুড়ান্ত মূল্য দিয়েছেন মানুষকে দিয়াবলের কবল থেকে অবমুক্ত করার নিমিত্তে। আর বিপরীতক্রমে ইবলিস ব্রত নিয়েছে তার অপকর্ম সুচারুরূপে পরিচালনা করার জন্য। নানা কৌশলে রুটির মধ্যে খামি মিশিয়ে দিচ্ছে, তাই খামীশুণ্য রুটি খেতে আমাদের সদাসর্বদা অতীব সাবধান থাকতে হবে। মসীহ স্বীয় রক্তের মূল্যে গুনাহগার জগত ক্রয় করে নিয়েছেন। যারাই বিশ্বাস পূর্বক মসীহের সাথে যুক্ত হতে পেরেছেন তাদের অবশ্যই থাকতে হবে মাত্র একটি পরিচয়, আর তা হলো নূরের সন্তান। খোদা যেমন নূর, মসীহ হলেন জগতের নূর আর মসীহে আশ্রিত ব্যক্তিবর্গ অবশ্যই পরিণত হয়ে গেল দুনিয়ার নূরে। “যে কথা আমরা ঈসা মসিহের কাছ থেকে শুনে তোমাদের জানাচ্ছি তা এই– আল্লাহ নূর; তাঁর মধ্যে অন্ধকার বলে কিছুই নেই। যদি আমরা বলি যে, আল্লাহ ও আমাদের মধ্যে যোগাযোগ–সম্বন্ধ আছে অথচ অন্ধকারে চলি তবে আমরা মিথ্যা কথা বলছি, সত্যের পথে চলছি না। কিন্তু আল্লাহ যেমন নূরে আছেন আমরাও যদি তেমনি নূরে চলি তবে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ–সম্বন্ধ থাকে আর তাঁর পুত্র ঈসার রক্ত সমস্ত গুনাহ থেকে আমাদের পাক–সাফ করে” (১ ইউহোন্না ১:৫–৭) “পরে ঈসা আবার লোকদের বললেন, “আমিই দুনিয়ার নূর। যে আমার পথে চলে সে কখনও অন্ধকারে পা ফেলবে না, বরং জীবনের নূর পাবে” (ইউহোন্না ৮:১২) “তোমরা দুনিয়ার আলো। পাহাড়ের উপরের শহর লুকানো থাকতে পারে না” (মথি ৫:১৪)। বুনো ঘোড়া, পাগলা ঘোড়া আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার মধ্যে কি কোনো বাহ্যিক চেহারাগত বা অবয়বে পরিবর্তন প্রত্যাশা করা সমীচিন হবে? বলুন, জবাব দিন। মানুষের মধ্যেও তেমনি কোনো বাহ্যিক পরিবর্তন থাকতে পারে না বিশ্বাসের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। অন্ধ ছেলের নাম ‘পদ্মলোচন’ রাখার মত ভ্রান্ত প্রবনতায় আমাদের সমাজ  ভুগে চলছে। আপনি মসীহের সাথে বিশ্বাসে যুক্ত; আপনার স্বভাব আচরণ আর মসীহের স্বভাব আচরণের মধ্যে আর কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। মসীহকে লোকে চিনে নিত তাঁর শিক্ষা ও জীবনাচরণের মাধ্যমে। মানুষের কল্যাণবই অকল্যাণকর কোনো ইঙ্গিত তাঁর মধ্যে কেউ কখনোই খুঁজে পায় নি। খোদা হলেন অনন্ত প্রেম ও ক্ষমার একক উৎস, আর মসীহ সেই খোদার অবিকল প্রকাশ, যাকে মানবরূপে আমরা আমাদের মধ্যে একান্ত আপনজন হিসেবে পেয়েছি। তিনি আমাদের স্বভাব আচরণের তথা ধ্যান–ধারণার আমুল পরিবর্তন এনে দিয়েছেন, যেমন অবাধ্য বুনো ঘোড়া, আর সুপ্রশিক্ষিত বাধ্য ঘোড়া। আকার আকৃতি বা চেহারার কোনো পরিবর্তনের প্রশ্ন জাগে না। কথায় বলে ময়দানের ঘোড়ার পরিচয়! সমাজ জীবনে বিপদ আপদে আমরা প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় পেয়ে থাকি! কে মসীহের সাথে একাকার হয়ে আছে, ঘোষণা করেছেন তাঁর সাথে একাত্মতা, তা তার কতকগুলো বাহ্যিক বাহারী পোশাক দেখে চিনে নিতে হবে, এমনতো হবার কথা নয়? হায়রে অন্ধ সমাজ! ঈমানের চোখ তথা হৃদয়ের চোখ তোমাদের কবে খুলবে?

 

মসীহ যাদের সাহাবী হিসেবে বরণ করে নিয়েছিলেন, তাদের কি তিনি কোনো বাহারী পোশাকের পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন? তাদের ঘটেছিল হৃদয়ের পরিবর্তন। তদানীন্তন ঐতিহ্যগত ভ্রান্ত শিক্ষাকলাপ থেকে ঘটেছিল তাদের অবমুক্তি। হযরত পিতরের বক্তব্য শুনে একদিনেই তিন হাজার লোক বয়েত নিয়েছিলেন অর্থাৎ মসীহের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। “এছাড়া আরও অনেক কথা বলে পিতর সাক্ষ্য দিতে লাগলেন। তিনি তাদের এই বলে বুঝাতে চেষ্টা করলেন, এই যগের বিবেকহীন লোকদের থেকে নিজেদের রক্ষা করুন। যারা তাঁর কথায় ঈমান আনল তারা তরিকাবন্দী নিল এবং সাহাবীদের দলের সংগে সেই দিন আল্লাহ কমবেশ তিন হাজার লোককে যুক্ত করলেন” (প্রেরিত ২: ৪০–৪১)। বাহ্যত: তারা কি কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন? নাম পরিবর্তন বা খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন তাদের চিন্তাতেও কাজ করতো না। পরবর্তী পর্যায়ে মসীহীয়াত যখন সফল বাণিজ্যিক পুজিতে পরিণত হলো তখন প্রয়োজন পড়লো ট্রেডমার্কের, বাহ্যিক বাহারি নাম উপাধির তথা নির্দিষ্ট পোশাক পরিচ্ছদের। বর্তমান সমাজে কর্ম দিয়ে নয়, চিন্তা চেতনা দিয়েও নয়, অতিসহজেই আজ আমরা চিনে নিতে পারি কে কার পক্ষে সাখ্য বহন করছে। ব্যক্তির মুখ খোলার আগেই সাধারণ লোক তাদের চিনে নিতে পারে, যেমন প্রতিরক্ষা বাহিনীর পোশাক বা ইউনিফর্ম, যা দেখে কে কোন মর্যাদা সম্পন্ন অফিসার, তা আমার চিনে নিতে পারি।

 

ভ্রান্ত সমাজ বিশ্বাস নিয়ে আজ রমরমা বাণিজ্য করে চলছে! মসীহীয়াত প্রকাশ পাবে বিশ্বাাসে, পোশাকে বা কোনো বিশেষ চিহ্নে নয়। কে ভদ্র আর কে অভদ্র পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য আপনি কি বিশেষ কোনো চাপরাস ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। যেমন ইনি বড় লাটের চাপসারি, (খড়ৎফ পষরাব) ডরে ভয়ে কেউ তার গা ঘেসে দাড়ায় না। এমন প্রবণতা যেমন মুর্খের সমাজে প্রচলিত থাকতে পারে, কিন্তু কোনো শিক্ষিত ভদ্র সমাজে তেমন প্রবণতা কেবল অবান্তর চিন্তা। সুশিক্ষিত ব্যক্তির পরিচয় হবে তার স্বভাব আচরণে। কথায় বলে নকল ঔষধের লেবেল চমৎকার হৃদয়গ্রাহী হয়ে থাকে। ফটকাবাজ এমন পোশাক পরিচ্ছদ ব্যবহার করে, যার ফলে সাধারণ ব্যক্তিবর্গ মূর্ছা পড়তে বাধ্য।

 

খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ গোটা জীবন সমাজের আর দশজন লোকের মত স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন। মানব দেহে খোদার পবিত্রতা, পরাক্রম প্রতাপ বিরাজমান; তা তিনি যখন মুখ খুলতেন তখনই শ্রোতৃমন্ডলী ব্যক্তিক্রমী ধ্যান–ধারণা লাভ করতেন। লোকে বলাবলি করতেন ইনি আলেম ওলামাদের মত ফালতু বিষয় নিয়ে বকবক করেন না, প্রকৃত জীবনধর্মী শিক্ষা তাঁর কাছে খুঁজে পাওয়া যায়।

 

তদানীন্তন সমাজ খোদার উপর প্রকৃত বিশ্বাাস গুলিয়ে ফেলেছিল ভ্রান্ত মানুষের ভ্রান্ত শিক্ষার সাথে; যেমন বর্তমানে ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ সার্বিক মন্দ কাজের সাথে আছে হরদম যুক্ত। তাদের শিক্ষার কলাপের মধ্যে মানুষ হত্যা করার মত দৃষ্টান্ত খুঁজে পাই, যাতে ধার্মিকতায় এতটুকু হানি হবার নয়। একজন নয় দুইজন নয় লাখ লাখ লোক ধর্মের অজুহাতে কতল করাটাই সম্পূর্ণ জায়েজ হয়ে আছে, তেমন ভ্রান্তিজনক শিক্ষা আজ আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে!

 

কথায় বলে, আইনের ফাক ফোকর দিয়ে অপরাধী পার পেয়ে যায়। ধর্মীয় ক্ষেত্রটি সমপর্যায় পড়ে আছে। মানুষের অজ্ঞতার সুবাদ বা সুযোগে প্রতারকচক্র বেশভুষার বা নানাবিধ চাপরাসের আড়ালে আবডালে মোহান্ধ করে রাখে, কুড়িয়ে নেয় ভক্তিশ্রদ্ধা যা তাদের (প্রতারকদের) আদৌ পাবার কথা নয়। একটা নরঘাতী খুনিকে অবশ্যই ঘৃণাভরে প্রত্যাক্ষান করা উচিত। মরুভূমি সদা থাকে জলের তৃষ্ণায় কাঙ্খিত, মরুমাঝে যারা বসবাস করে তারা হন্নে হয়ে অপেক্ষা করে তৃষ্ণা নিবারণের সুপেয় জলের। মানুষের জরুরী অত্যাবশ্যক চাহিদা দেখে মরীচিকারুপী ধোকাবাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাখে। তাদের দাবি হলো আর একটু এগিয়ে গেলেই সুপেয় জলের সন্ধান মিলবে, কেননা মরীচিকা দূর থেকে দৃষ্ট হয় প্রবাহমান সুপেয় জলের নদী। যারা পোশাক–আশাকে ধার্মিক কলে স্বাব্যস্থ হয় তারাও এক প্রকার তথাকথিত ধার্মীয় মরীচিকা, যারা নিয়ত আমাদের অর্থাৎ সাধারণ লোকদের ভ্রান্ত পথে হাতছানি দিয়ে চলছে। মুখোশের আড়ালে তাদের চরিত্র হলো লুটপাট, ঘর–বাড়ি, জমি–জমা জবর দখল অর্থাৎ পাপের সার্বিক কর্মকান্ড। তাদের এহেন ন্যাক্কারজনক চরিত্র যদি কোনোভাবে প্রকাশ পেয়ে যায় তবে সাধারণ লোকজন ঝাটাপেটা করে তাড়িয়ে দিবে। সে ভয় তাদের আছে বিধায় সদা থাকে তটস্থ, বাহ্যিক আবরণের অন্তরালে থাকে লুকিয়ে।

 

মানুষের কাছে লুকানো সম্ভব হলেও খোদা ও পাকরূহের কাছে কেউ লুকিয়ে থাকতে পারে কি? আমরা সর্বদা জীবন্ত জাগ্রত পাকরূহের উপর নির্ভর করে চলি। তিনি আমাদের প্রতিরক্ষা না দিলে আজ পর্যন্ত আমরা বেঁচে থাকতে পারতাম না। শুকরীয়া আদায় করি প্রাণপ্রিয় মসীহের, যিনি নিজের পূতপবিত্র ঐশি প্রাণ পর্যন্ত কোরবানি দিয়েছেন পাপের করাল গ্রাস থেকে অবমুক্ত করার জন্য। আমাদের বিনষ্ট জীবন মসীহই কিনে নিয়েছেন এক চুড়ান্ত মূল্যে। তিনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন সেই সকল দায়দায়িত্ব যা পালন করে আমাদের বাকি জীবনটুকু যেন কাটাতে পারি তেমন প্রার্থনা রাখছি মাবুদের পাক দারবারে। “আল্লাহর রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ। এটা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা আল্লাহরই দান। এটা কাজের ফল হিসাবে দেওয়া হয় নি, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে। ১০আমরা আল্লাহর হাতের তৈরী। আল্লাহ মসিহ ঈসা সংগে যুক্ত করে আমাদের নতুন করে সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা সৎ কাজ করি। এই সৎ কাজ তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন, যেন আমরা তা করে জীবন কাটাই” (ইফিষীয় ২ : ৮–১০)।

ShareTweet
Next Post
তরুণেরা কোথায় বিনিয়োগ করবেন

তরুণেরা কোথায় বিনিয়োগ করবেন

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

  • Amy1660 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Valerie2737 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Haven4448 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

Recent News

বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি, জবাব চাইল আদালত

বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি, জবাব চাইল আদালত

August 31, 2025
আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র

August 31, 2025
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা

No Result
View All Result
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা