রমজানের বাকি প্রায় দেড় মাস। এরমধ্যেই এক দফা সয়াবিনের দাম বাড়িয়েও বাজারে মিলছে না সয়াবিন তেলের বোতল। অভিযোগ উঠেছে, রমজানকে সামনে রেখে তেলের দাম নিয়ে খেলছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। রাজশাহী–চট্টগ্রামের তেলের বাজারে দেখা গেছে একই চিত্র। ক্রেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় ডিলাররা তেল মজুদ করে রাখছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সামনে রমজানে বাড়তি মুনাফা লাভের আশায়। অনেক ডিলার চাহিদার তুলনায় সামান্য তেল দিলেও সাথে জুড়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন শর্ত। ৫ লিটারের তেলের জন্য ডিলারের কাছ থেকে নিতে হবে ৬ কেজি লবণ অথবা অন্য কোনো পণ্য। শর্ত না মানলে তেল দিচ্ছে না তারা। রাজশাহীর সাহেব বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিসেম্বরের আগে সয়াবিন তেলের এক লিটারের বোতল বিক্রি হয়েছে ১৬৭ টাকায়। ৫ লিটারের সয়াবিনের বোতল বিক্রি হয়েছে ৮১৮ টাকায়। বর্তমানে, এক লিটারের বোতল ১৭৫ এবং ৫ লিটারের বোতল ৮৭৫ টাকায় বিক্রির কথা। কিন্তু রাজশাহীতে এই দামেও মিলছে না সয়াবিন তেল। তেল ব্যবসায়ী অভি কর্মকার বলেন, ‘দাম বাড়ানোর আগে বোতলজাত সয়াবিন বাজার থেকে একদম উধাও হয়ে গিয়েছিল। দাম বাড়ানোর পর কিছু দোকানে সয়াবিন মিললেও এখন বর্ধিত দামেও পাওয়া যাচ্ছে না। আরডিএ মার্কেটের মুদি দোকানগুলোতে এক লিটারের বোতলে নেওয়া হচ্ছে ১৭৫ টাকা। খোলা সয়াবিনও প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৭৬ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিনের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল।’
চট্টগ্রামের বাজার ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র। চট্টগ্রামের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে খোলা সয়াবিনও। ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম বাড়াতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এই সংকট। আসন্ন রমজান মাসে সয়াবিনের বাজার সহনীয় রাখতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, চট্টগ্রামের বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটছেই না। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটে এখন যুক্ত হয়েছে খোলা সয়াবিনও। তবে এই সংকট যেন রমজানে না থাকে সেজন্য তিনি এখনই সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের।