মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব রাখার মূল কারণ হলো সুদীর্ঘ নয়টি মাস ধরে ৩০ লক্ষ মা–বোনদের প্রাণের মাধ্যমে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে দেশটিকে তদানিন্তন পাকহানাদার বাহিনীর কব্জা থেকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশটিকে গঠন দিতে হয়েছে।
বিগত ১৯৭১ সনে আমাদের দেশের লোকদের আর্থিক অবস্থা মোটেই সংগতিপূর্ণ ছিল না। বলা চলে নূণ আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। তেমন দারিদ্র ক্লিষ্ট অবস্থায় যে কয়টি দেশ মানবতার ক্ষাতিরে আমাদের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, বিপদ দূর হবার পরে কি করে তাদের আমরা ভুলতে পারি? কথায় বলে এক মাঘে শীত যায় না। তা ছাড়া মানবতার ছবকেও পড়ে না উপকারীর অপকার করা।
যেহেতু কোনো ব্যক্তি নিজে নিজেকে সৃষ্টি করেনি এবং তেমন ক্ষমতা কারো বাহুতেই নেই, রয়েছে তার সুনির্দিষ্ট নির্মাতা ও জন্মাদাতা, যার হাতে সে লালিত পালিত হয়ে বর্তমানকার অবস্থানে আসতে পেরেছে, সুতরাং অবশ্যই তাকে বিনম্ররচিত্তে কৃতজ্ঞতা ভরে স্বীকার করতেই হবে। প্রথম মানুষ হলেন আদম যাকে খোদা নিজ হাতে আপন সুরতে স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সদাসর্বদা খোদার উপর নির্ভরশীল। বেঁচে থাকার জন্য তিনিই মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থরে বিথরে গোটা বিশে^ স্থাপন করে রেখেছেন। আপনাকে চিনে নিতে হবে! বর্তমান বিশ^ শান্তির বিশ^ বলে মনে করা চলবে না। নিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের বাঁচতে হচ্ছে, সদা যুদ্ধ করে চলতে বাধ্য। আর এ সংগ্রাম শুরু হয়েছে মানবের যাত্রারম্ভ থেকে।
মহান স্রষ্টা মানুষ সৃষ্টি করে এদন কানন নামক প্রাচুর্যপূর্ণ বাগানে সুখে শান্তিতেই আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সকল নষ্টের ভিলেন হলো খোদা ও মানুষের দুষমন অভিশপ্ত ইবলিস। অবশ্য মানুষের মধ্যেও রয়েছে কতিপয় দুর্বল দিক, মন্দের প্রতি আকর্ষণ যেমন দেহের কামনা, চোখের লোভ ও সাংসারিক বিষয়ে অহংবোধ। মানুষ নিজে নিজেকে কোানোভাবেই সামলাতে পারলো না, ইবলিসের কুটচালে চরমভাবে ধরা খেল। ইবলিস এসে রিসেট বাটনে পুশ করলো, ভুলিয়ে দিল মহান স্রষ্টার বিশাল পরিকল্পনা, যে কারণে বাতেনী খোদা মূর্তমান মানুষ সৃষ্টি করলেন। মানুষ যেন অদৃশ্য খোদাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে সে কারণেই তিনি নিজের সুরতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যখনই ভুলে গেল আপন স্রষ্টাকে, তখনই অভিশপ্ত ইবলিস তাকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করে ধ্বংসস্তুপে ঠেলে দিল। যার প্রমাণ আজ গোটা বিশ্ব তিক্ততার সাথে পানাহার ও জীবন যাপন করে চলছি। মানুষ মানুষের স্বজন–প্রিয়জন, পারষ্পরিক প্রেম স্নেহ মমতার আঁচলে বাধা থাকবে সর্বক্ষণ; বাস্তবে তার পরিবর্তে সাপ–নেউলের মত পরষ্পরকে বিনাশ করার চর্চা করে চলছে দিবানিশি। খোদার শিক্ষার বিপরীত শিক্ষা হলো অভিশপ্ত ইবলিসের শিক্ষা। তাই, যারাই মানুষ খুন করে চলছে তারা অবশ্যই নারদের দ্বারা হচ্ছে পরিচালিত।। সর্বাবস্থায় নারদের কুমন্ত্র আজ আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে। খোদার কাছে নারদের যেমন কোনো স্থান থাকতে পারে না, একইভাবে আমরাও ইবিøশসরিতো কুলঙ্গারদের সাহচর্য দিতে পারি না।
নিয়ত সংগ্রাম, গবেষণা, শ্রম সাধনা করে মানুষ এগিয়ে চলছে উদয়ের পথে, জীবনের স্বার্থকতা অর্জণের তাগিদে। খোদা যেমন প্রেম, একইভাবে খোদার নোমায়েন্দা একদিকে স্বীয় নির্মতাকে আন্তরিকভাবে প্রেম করবে, কথায় কাজে জীবনাচরণে খোদার মহিমা প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করে চলবে, তদ্রæপ অন্যদিকে পরষ্পরকে আত্মবত প্রেমরাগে জড়িয়ে রাখবে যা হলো একই ব্যক্তি আদমের ঔরষ হতে জাত হবার তাৎপর্য।
মানুষের সাথে মানুষের বাধ–বিভেদ কেবল খোদার শত্রæ ইবলিসের ষড়যন্ত্র, মানব জাতিকে বিনাশ করার পায়তারা। আমাদের হাতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইবলিশের মস্তক চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া। আর তেমন অভিযানে আমাদের একমাত্র সহায় হলেন খোদ পাকরূহ, যিনি নিজেও ইবলিশকে চরমভাবে পরাভুত করে ছেড়েছেন। রিসেট বাটন দাবিয়ে অতীতকে মুছে ফেলা কেবল অভিশপ্ত ইবলিশের ষড়যন্ত্র; দেশ প্রেমিক ও মানবতাবাদী কোনো মানুষের মধ্য থেকে তা জাগতে পারে না।