বর্তমানে তিন শতাধিক পরিবারের অন্তত ১ হাজার নারী-পুরুষ ঝুরি তৈরির সঙ্গে যুক্ত আছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই ঝুরি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় এই ঝুরি তৈরি হলেও শীতকালে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও মেলার বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে শীতকালকে পিঠাটি তৈরির প্রধান মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।
ঝুরিপিঠা তৈরির কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোররাত থেকে শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ। প্রথমে চুলার ওপর বড় একটি পাতিলে পানি গরম করে এতে পরিমাণমতো আতপ চালের গুঁড়া ও লবণ দিতে হয়। এরপর সেগুলো সিদ্ধ করে খামির তৈরি করা হয়। এ পর্যায়ে খামির থেকে ছোট ছোট বল আকৃতির দলা তৈরি করা হয়। সেই দলাগুলো ঝাঁজর বা মাটির ছাঁচের ওপর ঘষে ঘষে কাঁচা ঝুরি তৈরি করা হয়। পরে সেই ঝুরি তিন-চার দিন রোদে শুকিয়ে বাড়িতে রান্না ঘরে চুলার আগুনে নারীরা বালু দিয়ে ভেজে খাবারের উপযোগী করে থাকেন। পরে সেগুলো মাটির পাত্রে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
বাড়ির পাশের উঠানে ঝুরি শুকাচ্ছিলেন তানিয়া খাতুন (৩২) নামের এক গৃহবধূ। তিনি বলেন, স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই মিলে ঝুরি তৈরির কাজ করেন। এতে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে পরিবারের খরচ চলে। সংসারের অন্য কাজের ফাঁকে এ কাজ করেন তিনি। সবাই মিলে দিনে ৮০ কেজি ঝুরি তৈরি করতে পারেন।
ঝুরি তৈরির কারিগর আব্দুল মালেক বলেন, এক বস্তা আটার ঝুরি তৈরি করতে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি হয় ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকায়। যদি আকাশের অবস্থা খারাপ হয় তাহলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
আয়মনা বেগম (৫০), আলেয়া বেগম (৪৮), সুফিয়া খাতুনসহ অন্য নারীরা জানান, কেজিপ্রতি ঝুরি বিক্রি হয় ১০০-১২০ টাকায়। কেজিতে তাদের ১৫ থেকে ২৫ টাকা লাভ হচ্ছে। তাদের তৈরি ঝুরির চাহিদা থাকায় বিক্রিতেও কোনো বেগ পোহাতে হচ্ছে না। বাড়ি থেকেই পাইকারেরা এগুলো সংগ্রহ করেন।
পাইকারি ঝুরি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন বলেন, প্রায় আট বছর ধরে আমি এখান থেকে ঝুরি পাইকারি ধরে কিনে বিভিন্ন গ্রামের জলসায়-মেলাতে বিক্রি করছি। নানা উৎসবসহ গ্রামীণ মেলায় ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার হিসেবে ঝুরিপিঠার ব্যাপক চাহিদা আছে। ঝুরি তৈরি করে বিক্রিতে কোনো কষ্ট করতে হচ্ছে না। লাভও একেবারে কম হচ্ছে না।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, হাটপাঁচিলে ভাঙনকবলিত মানুষগুলো ঝুরি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি শুনেছি। তবে তারা কেউ আমাদের কাছে আসেনি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণের আওতায় এসব গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা চলমান।