সরকার বা আদালত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটা রাজনৈতিক অথবা আদালতের সিদ্ধান্ত। আমরা এ দুটির দিকে চেয়ে আছি। বিধিবিধান অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ একটা নিবন্ধিত দল। নির্বাচন করা বা না করার সিদ্ধান্ত মূলত তাদের। তারা যদি সিদ্ধান্ত নেয়, নির্বাচন করবে না– আমরা তো জোর করে করাতে পারব না। ১৭ বছর বয়সীদের ভোটার করার দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধানে তো বলা আছে ১৮ বছর। যদি সংবিধান পরিবর্তন করে ১৭ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়, আমরা সেভাবে কাজ করব। আমরা সংবিধান অনুযায়ী চলি। অন্য কারও নির্দেশনায় চলি না। সংবিধানে যদি পরিবর্তন আসে ১৭ বছর বয়সে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা রেখে, তাহলে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ) সংশোধন করতে হবে। ভোটার তালিকা আইনে সংশোধনী আনতে হবে।
সংখ্যানুপাতিক হারে ভোটের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও সংবিধানে সংযোজিত হয়নি। সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত যে কমিশন করা হয়েছে, তারা কী পরামর্শ দেন, আমরা দেখি। তাদের পরামর্শ যদি অনুমোদিত হয়, সরকার যদি সেভাবে সংবিধান সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমরা সেভাবে নির্বাচন করব। আর না হলে বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে যেভাবে আছে, সেভাবেই করতে হবে।
ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কথা জানিয়ে নাসির উদ্দীন বলেন, এবার আর আগের মতো ভোট হবে না। সেটার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। ’৯১, ’৯৬ ও ২০০১ সালের মতো যাতে নির্বাচন করতে পারি। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, অনেক অবৈধ ভোটার আছে। অনেক বিদেশি ভোটার হয়ে গেছে এখানে। অনেক ভোটার মারা গেছে। মৃত ভোটার রয়ে গেছে। কিন্তু নাম কাটা যায়নি। ওটা বাদ দিতে চাই। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। অনেকে মনে করেন, ভোটার হয়ে কী হবে। ভোট তো কেউ না কেউ দিয়ে দেবে। আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই। বাড়ি বাড়ি যাব। টার্গেট হচ্ছে মাস ছয়েকের মধ্যে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কাজ শেষ করব। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. নোমান হোসেন ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ প্রমুখ।
তোপের মুখে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতার জন্য আবেদনকারীদের তোপের মুখে পড়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা চলাকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সিইসি আসার খবর পেয়ে আবেদনকারীরা সেখানে ভিড় করেন। তাদের দাবি, নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে কোনো সুরাহা না পেয়ে তারা এখানে ছুটে এসেছেন। খবর পেয়ে সভাস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এ সময় তার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবেদনকারীরা। তখন তিনি বলেন, জেলা কার্যালয়ে তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন। দ্রুততর সময়ের মধ্যে আবেদনগুলো বিবেচনা করে সমাধান দেওয়া হবে। পরে আবেদনকারীরা ফিরে যান।