দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক ইটভাটা। এসব ইটভাটার মাটি জোগানের জন্য নদীর পাড় কাটা, বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি আনা এবং প্রস্তুতকৃত ইট সরবরাহ কাজে যান্ত্রিক নৌযানের ব্যবহার, ইটভাটা শ্রমিকদের জন্য নদীর পাড়ে স্থাপনকৃত খোলা শৌচাগারসহ নানান কারণে হুমকির মুখে পড়েছে হালদা নদীর মা মাছ তথা জীববৈচিত্র্য। এ জন্য নদীপাড়ের ইটভাটা বন্ধে জোর দাবি জানিয়েছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। সূত্রমতে, গত কয়েক বছর আগেও হালদা নদীর তীরে রাউজান অংশে কোতোয়ালির ঘোনার পাশে, পশ্চিম বিনাজুরী, পশ্চিম গুজরার কাশেমনগর, উরকিরচরের পশ্চিম আবুরখীল, সার্কদা, নোয়াপাড়ার মোকামীপাড়া ও কচুখাইন এবং হাটহাজারী অংশের মেখলে ১০টি ইটভাটার অস্তিত্ব ছিল। নদী বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ৭টি ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অনেকে আগেই। গেল কয়েক বছর আগে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামীপাড়া গ্রামে ‘এ আলী’ নামের একটি ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। এর পরও ইটভাটার চিমনি পুনঃস্থাপন করে ইট প্রস্তুত করছে ‘এ আলী’।
ওই ইটভাটা পরিদর্শনে দেখা যায়, ইটভাটার পাশে নদীর পাড় ঘেঁষে এস্কাভেটর দিয়ে বিশাল আকৃতির গর্ত করে মাটি খনন করা হচ্ছে। তার ৫০ ফুট দূরত্বে এসব মাটি মজুদ করে প্রস্তুত করা হচ্ছে কাঁচা ইট তৈরি করার জন্য। একইভাবে নদীর পাড়ে ইটভাটা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উরকিরচরের সার্কদা এলাকায় ‘মেসার্স আজমীর অটো ব্রিকস’ ও একই ইউনিয়নের পশ্চিম আবুরখীল এলাকায় ‘শান্তি ব্রিকস’। এ আলী, আজমীর অটো ও শান্তি ব্রিকসে যন্ত্রতাণ্ডব চালানো হলেও নীরব ভূমিকায় উপজেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর। এ আলী ব্রিকস পরিদর্শনকালে ইটভাটায় নিয়োজিত শ্রমিকের মুঠোফোনে কল করে ইটভাটা মালিক রাশেদ পরিচয়ে এক ব্যক্তি বলেন, হালদা নদীর পাড় হলেও এসব জমি আমাদের নিজস্ব জায়গা। আমরা নদীর পাড়ে যে মাটি খনন করছি, তা পুনরায় ভরাট করে দেওয়া হবে।
এদিকে শান্তি ব্রিকসের অংশীজন প্রিয়তোষ বড়ুয়া বলেন, নদীর পাড় হলেও এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তবে ইটভাটার কারণে নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক এবং হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী বসতি এলাকা, পাহাড়, বন ও জলাভূমির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে নাÑ এমনকি কৃষিজমিতে ও ইটভাটা নির্মাণ অবৈধ।