রাজধানী যেন এখন আন্দোলনের নগরী! বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তা অবরোধ যেন এখন নিত্যদিনকার ঘটনা! এর মধ্যে আবার গেল ক’দিন ধরে কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীবাসীর জনজীবনেও। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। এবার এসব বিষয় নিয়ে কথা বললেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
গতকাল সোমবার রাতে ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই অভিনেতা বলেন, ‘মানুষ জানতে পারছে ছাত্ররাও জানতে পারছে; কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কেন সমস্ত বিষয়গুলো আগে থেকে জানতে পারছে না কেন? সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে এ জিনিসগুলো কেন থামানো হচ্ছে না? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো দেখছি, ছাত্রদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ দাঁড়ায়ে দেখেন– এটা হলে কীভাবে? এভাবে তো এইগুলো বন্ধ করা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরাতো শুরু থেকেই বলে আসছি, এই সরকারকে ফেল করানো যাবে না। এই সরকার ফেল মানে আমাদেরও ফেল। আমাদের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। এত রক্ত, বহু মানুষ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসবই তো বৃথা যাবে যদি সরকার ফেল করে।’
লাইলে ছাত্রদের নিয়েও কঠোর কথা বলেন তিনি। তার কথায়, ‘ছাত্রদের এক কলেজ থেকে আরেক কলেজে গিয়ে মারামারির যে ঘটনা ঘটল, যে উল্লাস এক পক্ষের ছাত্রদের দেখিছি, ভাঙচুর করে যে মজা পাচ্ছে– এটাতো দেখি একটা খেলা মনে করছে ওরা। এদেরকে যদি কড়া শাসন না করা হয় তাহলে তো থামবে না।’ অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা অযোগ্যদেরও সরানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা অযোগ্য আছে, তাদের সরিয়ে দেয়াই হবে উচিত সিদ্ধান্ত। তাদের বদলে নতুন লোক নেন। দুই সমন্বয়ক যারা উপদেষ্টা হিসেবে আছেন, তারাইতো সব ঠিকঠাক করছেন। তারা তো ঘুমাতেও পারছেন না। সব কাজতো তাদেরকেই করতে দেখি, বাকিরা কই? তাদেরতো কোনো কথাই দেখি না।’
ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘আমার দেশ এবং দেশের মানুষ, আপনাদের নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত। আপনারা জানেন নিজের জন্য কিছু আমি বলি না। জীবনে দেশ ছেড়ে গেলাম না কোথাও। ৩২ বছর ধরে একটা মুভমেন্ট নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আছি, সেই জায়গাটাতেও এখনো কিছু করতে পারলাম না। সেখানেও কোনো রিফর্ম নাই, কিচ্ছু নাই। চাঁদাবাজি তো আগের মতোই চলছে, অনিয়ম হচ্ছে– সবকিছুই হচ্ছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই যে ব্যাটারি চালিত রিকশাওয়ালারা দেখেন এখন কী বলছে! মনে হচ্ছে, সবাই এখন দেশটারে খুবলে খাবে। কারো কোনো ধরণের দরদ আমি দেশের প্রতি দেখি না। দেশটা চলবে কীভাবে, আমিতো এটা বুঝতেছি না।’ সবশেষে দর্শকপ্রিয় এই অভিনেতা জানান, চলমান সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বর্তমান সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।