Sunday, August 31, 2025
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
No Result
View All Result

রুহানী উত্তরণ (এম এ ওয়াহাব)

alorfoara by alorfoara
November 23, 2024
in সংখ্যা ১০৪ (২৩-১১-২০২৪), সম্পাদকীয়
0
0
SHARES
Share on FacebookShare on Twitter

আমি লিখে যেতে চাই ভাইদের কাছে, আমার হৃদয়ের কতিপয় গোপন কথা। গোটাবিশ্বে আজ আমরা সকলে ভুলের খেসারত দিয়ে ফিরছি, যার সর্বত্র জ¦লন্ত প্রমাণ হলো, ‘মানুষের রক্ত ক্ষরিত হচ্ছে মানুষের হাতে’। গোটাবিশ্ব এক যোগে যে ভুলের পথ ধ্বংস পুরীতে পরিণত, তা প্রমাণ করার জন্য অধিক প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। প্রসঙ্গক্রমে কিতাব থেকে দু’টি আয়াত তুলে ধরছি, “একদিন লেমক তার দুই স্ত্রীকে বলল, “আদা আর সিল্লা, তোমরা আমার কথা শোন; লেমকের স্ত্রীরা, আমার কথায় কান দাও। যে লোক আমাকে জখম করেছে, অর্থাৎ যে যুবক আমার গায়ে হাত তুলেছে, আমি তাকে খুন করেছি।” (পয়দায়েশ ৪ : ২৩), “তার মধ্যে তিনি এই কথা লিখেছিলেন, যেখানে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হচ্ছে সেখানে সৈন্যদের সামনের সারিতে উরিয়াকে পাঠাবে, তারপর তার পিছন থেকে তোমরা সরে যাবে যাতে সে আঘাত পেয়ে মারা যায়” (২শমুয়েল ১১ : ১৫)।

 

চাই আমাদের উত্তরণ! চাই এমন এক সহায় যিনি রয়েছেন সার্বিক ক্লেদ–কালিমা, হিংসা–বিদ্বেষ পরর্শ্রীকাতরতার উর্দ্ধে। যিনি নিজের প্রাণের অধিক মানবজাতিকে প্রেম করেছেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যিনি অসহায় মানুষ নিয়ত খুঁজে ফিরছেন। কালামে এমনিভাবে বর্ণিত রয়েছে, “আল্লাহ মানুষকে এত মহব্বত করলেন যে, তাঁর একমাত্র পুত্রকে তিনি দান করলেন, যেন যে কেউ সেই পুত্রের উপর ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়। আল্লাহ মানুষকে দোষী প্রমাণ করবার জন্য তাঁর পুত্রকে দুনিয়াতে পাঠান নি, বরং মানুষ যেন পুত্রের দ্বারা নাজাত পায় সেজন্য তিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন। যে সেই পুত্রের উপর ঈমান আনে তার কোন বিচার হয় না, কিন্তু যে ঈমান আনে না তাকে দোষী বলে আগেই স্থির করা হয়ে গেছে, কারণ সে আল্লাহর একমাত্র পুত্রের উপর ঈমান আনে নি। তাকে দোষী বলে স্থির করা হযেছে কারণ দুনিয়াতে নূর এসেছে, কিন্তু মানুষের কাজ খারাপ বলে মানুষ নূরের চেয়ে অন্ধকারকে বেশী ভালবেসেছে। যে কেউ অন্যায় কাজ করতে থাকে সে নূর ঘৃণা করে। তার অন্যায় কাজগুলো প্রকাশ হয়ে পড়বে বলে সে নূরের কাছে আসে না। কিন্তু যে সত্যের পথে চলে সে নূরের কাছে আসে যেন তার কাজগুলো যে আল্লাহর ইচ্ছামত করা হয়েছে তা প্রকাশ পায়” (ইউহোন্না ৩ : ১৬–২১)।

 

যিনি নিজের মত করে, নিজের সুরতে, স্বীয় বহিপ্রকাশ ঘটাতে, নয়নের মণিতুল্য মানুষ সৃষ্টি করেছেন, সেই আদুরে মানুষ নিজেদের সামলাতে যখন চরমভাবে ব্যর্থ হলো, ভেসে গেল অভিশপ্ত ইবলিসের লোভাতুরা কুটচালে, প্রতিফল দাঁড়াল বড়ই মর্মন্তুদ, তাদের আর্তচীৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠলো, মেহেরবান পিতা স্বীয় পাকরূহ মানবশিশুরূপে জগতে করলেন প্রেরণ, যাকে দেখার মাধ্যমে আজ আমরা বাতেনী বা অদৃশ্য খোদার অবিকল অবয়ব দেখতে পেলাম। “এই পুত্রই হলেন অদৃশ্য আল্লাহর হুবহু প্রকাশ। সমস্ত সৃষ্টির আগে তিনিই ছিলেন এবং সমস্ত সৃষ্টির উপরে তিনিই প্রধান, কারণ আসমান ও জমীনে, যা দেখা যায় আর যা দেখা যায় না, সব কিছু তাঁর দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে” (কলসীয় ১ : ১৫–১৬)।

 

উদভ্রান্ত বিশ্বের জন্য সেই প্রিয়জন ব্যক্তি হলেন জীবন পথের একমাত্র পথেয়। যার জীবনে নেই কোনো পাপ বা পাপের কুপ্রভাব, নিজের ক্ষতি বা অপরের ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। পাপ হলো খোদাদ্রোহীতা, যা মহাজ্ঞানী খোদার মানব কল্যাণের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা বানচাল করে ছাড়ে। খোদার দুষমণ কুলটা ইবলিসের কুটচাল মানব বিদ্ধংসী ষড়যন্ত্র। যা কার্যত বাস্তবায়ীত হতে শুরু করেছে এদন কানন থেকে। গানের সুরে যেমন বলা হয়েছে, একটি গন্ধমের লাগিয়া, আল্লাহ বানাইছে দুনিয়া, আদম খাইল, হাওয়া খাইল, ইবলিস শয়তান তার আশা পুরাইল।

 

ইবলিস কিন্তু ক্ষান্ত হয়নি; খোদার একজাত পুত্র ঈসা মসীহকে প্রলুব্ধ করতে গিয়ে তিন বার জাগতিক চাহিদা মিটাবার জন্য অনুরোধ করেছিল। ক্ষুধার সময় পাথরকে রুটি বানাতে বলা, বায়তুল মোকাদ্দসের উঁচু শৃঙ্গ থেকে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়া, আদিপত্য দান করা “তখন শয়তান এসে তাঁকে বলল, “তুমি যদি ইবনুল্লাহ হও তবে এই পাথরগুলোকে রুটি হয়ে যেতে বল।”  ঈসা জবাবে বললেন, “পাক–কিতাবে লেখা আছে, মানুষ কেবল রুটিতেই বাঁচে না, কিন্তু আল্লাহর মুখের প্রত্যেকটি কালামেই বাঁচে”(মথি ৪ : ৩–৪)। “তখন ইবলিস ঈসাকে পবিত্র শহর জেরুজালেমে নিয়ে গেল এবং বায়তুল মোকাদ্দসের চূড়ার উপর তাঁকে দাঁড় করিয়ে বলল, “তুমি যদি ইবনুল্লাহ হও তবে লাফ দিয়ে নীচে পড়, কারণ পাক–কিতাবে লেখা আছে, আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের তোমার বিষয়ে হুকুম দেবেন; তাঁরা তোমাকে হাত দিয়ে ধরে ফেলবেন যাতে তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে।” ঈসা ইবলিসকে বললেন, “আবার এই কথাও লেখা আছে, তোমার মাবুদ আল্লাহকে তুমি পরীক্ষা করতে যেয়ো না।” তখন ইবলিস আবার তাঁকে খুব উঁচু একটা পাহাড়ে নিয়ে গেল এবং দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য ও তাঁদের জাঁকজমক দেখিয়ে বলল, “তুমি যদি মাটিতে পড়ে আমাকে সেজদা কর তবে এই সবই আমি তোমাকে দেব।” তখন ঈসা তাকে বললেন, “দূর হও, শয়তান। পাক–কিতাবে লেখা আছে, তুমি তোমার মাবুদত আল্লাহকেই ভয় করবে, কেবল তাঁরই এবাদত করবে।” তখন ইবলিস তাঁড়ে চলে গেল, আর ফেরেশতারা এসে তাঁর সেবা করতে লাগলেন” (মথি ৪ : ৫–১১)। গোটাবিশ্বের একচ্ছত্র অধিগতি বানিয়ে দেয়া “তুমি যদি মাটিতে পড়ে আমাকে সেজদা কর তবে এই সবই আমি তোমাকে দেব” (মথি ৪ : ৯)।

 

উক্ত প্রস্তাবগুলোর কোনোটির মধ্যেও রূহানী উৎকর্ষতা খুঁজে পাবার নয়। বর্তমান বিশ্বে সর্বত্র যে যুদ্ধ বিগ্রহ তথা মানব সভ্যতা বিনাশ করে চলছে, তার প্রত্যেকটির পিছনে রয়েছে অত্র পার্থীব চাহিদার বাস্তবায়ন, কেননা গোটা বিশ্ব আজ মাংসিক মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। তাদের কাছ থেকে রূহানী কার্যকারীতা প্রত্যাশা করা হবে, বসে বসে মূল্যবান সময় ও মেধা অপচয় করা। আর এক পলক সময় নষ্ট না করে ঠিক এই মুহুর্তে কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, যদিও আমাদের এই পৃথিবীতে বসবাস করতে হবে, যতদিন রক্তমাংসের দেহে বেঁচে আছি। আসলে আমরা হলাম খোদার নয়নের মণিতূল্য, খোদার সন্তান, সৃষ্টিলগ্নে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছেন, আর তার ঘোষণা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে আমাদের জীবনে; আর এটাই হলো আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি। “তারপর আল্লাহ্ বললেন, “আমরা আমাদের মত করে এবং আমাদের সংগে মিল রেখে এখন মানুষ তৈরী করি। তারা সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখী, পশু, বুকে–হাঁটা প্রাণী এবং সমস্ত দুনিয়ার উপর রাজত্ব করুক।” পরে আল্লাহ্ তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন। হ্যাঁ, তিনি তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন, সৃষ্টি করলেন পুরুষ ও স্ত্রীলোক করে। আল্লাহ্ তাঁদের দোয়া করে বললেন, “তোমরা বংশবৃদ্ধির ক্ষমতায় পূর্ণ হও, আর নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে দুনিয়া ভরে তোলো এবং দুনিয়াকে নিজেদের শাসনের অধীনে আন। এছাড়া তোমরা সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখী এবং মাটির উপর ঘুরে বেড়ানো প্রত্যেকটি প্রাণীর উপরে রাজত্ব কর।” এর পরে আল্লাহ্ বললেন, “দেখ, দুনিয়ার উপরে প্রত্যেকটি শস্য ও শাক–সবজী যার নিজের বীজ আছে এবং প্রত্যেকটি গাছ যার ফলের মধ্যে তার বীজ রয়েছে সেগুলো আমি তোমাদের দিলাম। এগুলোই তোমাদের খাবার হবে। দুনিয়ার উপরের প্রত্যেকটি পশু, আসমানের প্রত্যেকটি পাখী এবং বুকে–হাঁটা প্রত্যেকটি প্রাণী, এক কথায় সমস্ত প্রাণীর খাবারের জন্য আমি সমস্ত শস্য ও শাক–সবজী দিলাম।” আর তা–ই হল। আল্লাহ্ তাঁর নিজের তৈরী সব কিছু দেখলেন। সেগুলো সত্যিই খুব চমৎকার হয়েছিল। এইভাবে সন্ধ্যাও গেল সকালও গেল, আর সেটাই হল ষষ্ঠ দিন” (পয়দায়েশ ১ : ২৬–৩১)।

 

একমাত্র খোদা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, দোয়া করেছেন, প্রজাবন্তু ও বহুবংশ হয়ে গোটা বিশ্ব ভরে তুলতে, আবাদ করতে, সবকিছু শৃঙ্খলা মোতাবেক নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে, পারষ্পরিক প্রেম–প্রীতি, সহমর্মীতা বজায় রেখে একে অন্যকে গড়ে তুলতে সহযোগীতা করতে সদা প্রস্তুত থাকতে। পতীত অসহায় মানুষ তথা হারিয়ে যাওয়া বন্দিদের খুঁজে নিয়ে তাদের প্রভুর হাতে ফিরিয়ে দেবার গুরু দায়িত্ব পালন করার কাজে ব্যস্ত থাকা হবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমান বিশ্ব পরিচালিত হচ্ছে খোদাদ্রোহী অপশক্তির হাতে। অবশ্য মানুষকে যে সুমহান উপাধি বা খেতাব দেয়া হয়েছে এবং যে কারণে তাদের ডাকা হয়েছে খোদার খাস প্রতিনিধি, যা তাদের বর্তমানকার জীবনাচরণ দেখে একটি পাগলেও হাসতে বাধ্য। “এই হল আদমের বংশের কথা। মানুষ সৃষ্টি করবার সময় আল্লাহ্ তাঁকে তাঁর নিজের মত করে সৃষ্টি করলেন; ২সৃষ্টি করলেন পুরুষ এবং স্ত্রীলোক করে এবং তাঁদের দোয়া করলেন। সৃষ্টির সময়ে তিনি তাঁদের নাম দিলেন “মানুষ”” (পয়দায়েশ ৫ : ১–২)।

 

এখন প্রশ্ন জাগে, প্রতারিত বা স্খলনের পূর্ব পর্যন্ত আদম হাওয়া কেমন ছিলেন। খোদর সাথে তাদের নিত্যদিন বাকচারিতা চলতো। যেমন বিশ্বের বর্তমানকার ক্ষমতাধর মোড়লের কথাই দৃষ্টান্ত হিসেবে টানার প্রয়াস নিচ্ছি। ধরুন সদ্য ইলেকশনে জিতে যাওয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আপনাকে (ডোলান্ট ট্রাম্প) মুঠো ফোনে ডাক দেন, আর প্রশাষনের উর্দ্ধতন কোনো এক কর্মকর্তা আপনাকে ডেকে নেয়, তখন বাস্তবে আপনার মনের অবস্থা কোন স্তরে উঠে যাবে, আপনি তা জানেন না। আর গোটা বিশ্বের মালিক যদি আপনাকে ডাক দিয়ে জানতে চায়, আপনি কোন পর্যায়ে জীবন যাপন করছেন? আপনাকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। “দেখ, আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আঘাত করছি। কেউ যদি আমার গলার আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেয় তবে আমি ভিতরে তার কাছে যাব এবং তার সংগে খাওয়া–দাওয়া করব, আর সে–ও আমার সংগে খাওয়া–দাওয়া করবে।” (প্রকাশিত বাক্য ৩ :২০)

 

আসুন, পরম পূজনীয় আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে অতিযতেœ, অতি নিকট থেকে অনুসরণ করি। আমাদের মত করে ৩৩ বৎসর ধরে মাটির দেহে মাটির মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করে আমাদের জন্য এক জ¦লন্ত দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ হলো আপনার আমার জন্য একক উত্তম মডেল। মনে মনে অনেক সময় প্রশ্ন চলে আসে, অগণীত ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরদের মধ্যে কাকে আমি আদর্শ প্রাণ হিসেবে ধরে নেব! কমবেশি সকলেই দাবি করে চলছে, তারা প্রজ্ঞা, ধার্মিকতা, পূতপবিত্রতা তথা প্রেম প্রীতির দিক দিয়ে ইতোমধ্যে পৌছে গেছে অস্টমার্গে, অথচ তাদের জীবন চরিত্র সাদামাঠাভাবে দেখা হলেও ব্যক্তিটি যে প্রতারণার ফাঁদে অদ্যাবধি জড়িয়ে পড়ে আছে তার অযুত প্রমাণ ও চিহ্ন ধরা পড়বে। ‘যে হস্ত ভ্রাতার রক্তে হয়েছে রঞ্জিত, বলুন কি করে রাখি তারে শ্রদ্ধাভক্তি চিতে সঞ্চিত’? সুতরাং অতিসহজ সমীকরণ হলো, আমরা আদম বীর্যধারি কেউই পূতপবিত্র নই, যে পবিত্রতার স্তর খোদা আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন। খোদার সাথে পুণরায় মিলিত হতে চাইলে অবশ্যই আমাদের নতুন করে জন্মলাভ করতে হবে, বিষয়টি ধর্মীয় আলেম নীকদীম আদৌ বুঝতে পারলেন না। “ঈসা নীকদীমকে বললেন, “আমি আপনাকে সত্যিই বলছি, নতুন করে জন্ম না হলে কেউ আল্লাহর রাজ্য দেখতে পায় না” (ইউহোন্না ৩ : ৩)।

 

শুধু নীকদীম একাই নয়, যে কোনো রক্তমাংস নির্ভর সীমিত জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের পক্ষে বিষয়টি রয়ে গেছে প্রছন্ন। পাকরূহের সাহায্য ব্যাতিরেকে রূহানী বিষয়ের বিশ্লেষণ করা অসম্ভব। কালামপাকে অবশ্য বহু ইঙ্গিত রয়েছে, পুরাতন হৃদয়ের পরিবর্তন করার ফলে নতুন হৃদয় দিয়ে নতুন কিছু মানুষ দেখতে বা বুঝতে পারবে। “আমি তাদের দোয়া করব এবং আমার পাহাড়ের চারপাশের জায়গাগুলোকে দোয়া করব। আমি ঠিক সময়ে বৃষ্টি পাঠাব; তা হবে দোয়ার বৃষ্টি” (ইহিস্কেল ৩৪ : ২৬)

 

পরিশেষে বলতে হয়, আমাদের মহান ¯্রষ্টা আমাদের নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য অভিনব যে ব্যবস্থা প্রদান করেছেন তার মাধ্যমেই রয়েছে গোটা বিশ্বের পরিত্রাণ। বেগুনাহ হযরত ঈসা মসীহ আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে পরিশোধ করেছেন বিধায় আজ মসীহের মধ্যে হতে পেরেছি সম্পূর্ণ পূতপবিত্র, সমাসীন হবার সুযোগ পেয়েছি, সসম্মানে খোদার দরবারে, যা কেবল খোদার রহমতেই হয়েছে সাধিত। “আল্লাহর রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ। এটা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা আল্লাহরই দান। ৯এটা কাজের ফল হিসাবে দেওয়া হয় নি, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে। ১০আমরা আল্লাহর হাতের তৈরী। আল্লাহ মসিহ ঈসা সংগে যুক্ত করে আমাদের নতুন করে সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা সৎ কাজ করি। এই সৎ কাজ তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন, যেন আমরা তা করে জীবন কাটাই” (ইফিষীয় ২ : ৮–১০), “যদি কেউ মসিহের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে নতুন হয়ে উঠেছে। এই সব আল্লাহ থেকেই হয়। তিনি মসীহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে অন্যদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন। এর অর্থ হল, আল্লাহ মানুষের গুনাহ না ধরে মসীহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন। সেজন্যই আমরা মসিহের দূত হিসাবে তাঁর হয়ে কথা বলছি। আসলে আল্লাহ যেন নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করছেন। তাই মসীহের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, “তোমরা আল্লাহর সংগে মিলিত হও।” ঈসা মসিহের মধ্যে কোন গুনাহ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের গুনাহ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসীহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয়” (২করিন্থীয় ৫: ১৭–২১)।

ShareTweet
Next Post
গ্যাসের প্রিপেইড মিটার বসানো নিয়ে গ্রাহকদের অনীহা

গ্যাসের প্রিপেইড মিটার বসানো নিয়ে গ্রাহকদের অনীহা

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

  • Amy1660 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Valerie2737 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Haven4448 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

Recent News

বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি, জবাব চাইল আদালত

বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি, জবাব চাইল আদালত

August 31, 2025
আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র

August 31, 2025
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা

No Result
View All Result
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা