নানার বাড়ি বেড়াতে যাবে দুই ভাই–বোন। আনন্দের যেন শেষ নেই। তাই বাবার সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে করেই নানার বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিলেন তারা। চালকের আসনে ছিলেন বাবা আর যাত্রী দুই ভাই–বোন। কিন্তু বেশিদূর স্থায়ী হলো না ছোট্ট দুই শিশুর আনন্দযাত্রা। হঠাৎ তাদের অটোরিকশাকে চাপা দেয় একটি যাত্রীবাহী বাস। আর সেখানেই দুই শিশুর আনন্দযাত্রা রূপ নেয় অন্তিম যাত্রায়।
বৃহস্পতিবার রাতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার ছগুরা এলাকায়। এতে চালকের আসনে থাকা বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে ময়নামতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি বাস অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে সেটি ছিটকে পরে। এতে ঘটনাস্থলে জুনায়েদ মারা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফাহিমাও মারা যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, জুনায়েদ ও ফাহিমাকে মাদরাসা থেকে নিয়ে তাদের বাবা নিজেই সিএনজিটি চালিয়ে তাদের নানির বাড়ি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অলুয়া গ্রামে যাচ্ছিলেন। ছগুরা এলাকায় পৌঁছালে কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস অন্য অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজি উল্টে গিয়ে ভাই বোন মারা যান। এদিকে দুই ভাই–বোনের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তবে এর আগেই এলাকার উত্তেজিত লোকজন নিউ সুগন্ধা পরিবহনের পাঁচটি বাস ভাঙচুর চালিয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের এসপি খাইরুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে একটি যাত্রীবাহী বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাস নিয়ে চালক পালিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।