রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসাসেবা দুই ঘন্টা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। সদ্য নিয়োগ পাওয়া অধ্যক্ষ ডা. মাহফুজার রহমানের পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে চিকিৎসকরা। তা শেষ হয় ১১টার সময়। বহির্বিভাগসহ সব ওয়ার্ড থেকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় হাসপাতালে আসা শত শত রোগী দুর্ভোগে পড়ে।
সকালে হাসপাতালের আউটডোরে সরেজমিন দেখা যায়, টিকেট কাউন্টারের সামনে শত শত রোগীর ভিড়। চেম্বারে কোনো চিকিৎসক না আসায় দীর্ঘক্ষণ থেকে অপেক্ষা করছেন তারা। এ সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান দূর দূরান্ত থেকে আসা শতশত রোগী।
মহানগরীর উত্তম হাজীরহাট থেকে ১৪দিনের শিশুকে নিয়ে আসেন তার মা। বহির্বিভাগে দীর্ঘক্ষণ দেখে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। অসুস্থ থাকায় শিশুকে নিয়ে সকালে এসেছি কিন্ত এখনো চিকিৎসক দেখাতে পারিনি। কখন দেখাতে পারবো তাও জানিনা বলে আক্ষেপ করেন শিশুটির মা।
এদিকে পীরগাছা থেকে আসা বৃদ্ধ রহিম মিয়া আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘সকাল বেলা ঘুম থাকি উঠিয়া ডাক্তার দেখাতে আসছিনু। টিকিট কাউন্টারে এক ঘন্টা দাঁড়ে থাকিয়াও টিকিট পাও নাই। অসুস্থ শরীর নিয়ে মুই কতক্ষণ দাঁড়ে থাকতে পাইম জানো না।’
অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নীলফামারী থেকে আসা মনিরুজ্জামান মিঠুকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করছিলেন তার স্বজনরা। এ সময় তারা বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো ডাক্তার নেই। তারা কখন আসবে জানিনা। এজন্য রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’
আউটডোরে টিকিট বিক্রি প্রসঙ্গে কাউন্টারে কর্মরত ওয়ার্ডবয় রাসেল বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত টিকিট দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ডাক্তাররা এখনো আসেনি। দশটার পর আমরা টিকিট দেয়া শুরু করব।’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার শরিফুল ইসলাম মন্ডল চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজকে দুই ঘন্টার কর্মবিরতি চলছে। ফ্যাসিবাদের দোসর ডাক্তার মাহফুজকে অধ্যক্ষের পথ থেকে না সরানো হলে আগামীকাল থেকে শাউটডাউনে যাব আমরা।’
একইভাবে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের বিভাগীয় সভাপতি ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘ছাত্র জনতার রক্তের মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের পরও একজন ফ্যাসিবাদীকে এই হাসপাতালের অধ্যক্ষ করা হয়েছে। তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর ডা. মাহফুজার রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পরদিন থেকে তার পদত্যাগের দাবিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যাম্পাস জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। আজকে দুই ঘন্টার কর্মবিরতি শেষে তাদের দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে কমপ্লিট শাটডাউনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।