গেল আগস্টের বন্যায় মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তাঘাট ও পুল–কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের হিসাব অনুযায়ী সড়ক ও কালভার্টের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ মিরসরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক পরিদর্শন করেন এবং বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার ৬০টি সড়ক ও ২৫টি ব্রিজ–কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি। বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আজমনগর, করেরহাট ইউনিয়ন, ধুম ইউনিয়ন, ওসমানপুর ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্ট, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন।
সরেজমিন উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের জোরারগঞ্জ–মুহুরী প্রজেক্ট সড়কে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত। গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারীরা। এ ছাড়া গ্রামীণ একাধিক সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বন্যায় পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দৃশ্যমান হয়েছে। সংস্কার কাজ না হওয়ায় গাড়ির চাকার ঘর্ষণে সড়কে থাকা ছোট ছোট গর্তগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে উঠছে। ফলে সড়ক ব্যবহারে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় রুবেল দে জানান, জোরারগঞ্জ–মুহুরী প্রজেক্ট সড়কটি অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার শংকর দাস বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তাদের গ্রামের সড়কটি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক থেকে ইটগুলো উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কচুয়ার বাসিন্দা মো. মফিজ জানান, মিরসরাইয়ের কালামিয়া–আবু তোরাব সড়কের অবস্থা অনেক আগে থেকেই খারাপ। বন্যা–পরবর্তী সড়কটি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কে গর্ত আর গর্ত। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা না নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রায় সব সড়কের একই অবস্থা। কোনো কোনো সড়কের ওপরের কার্পেটিং উঠে পুরোপুরিই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রনি সাহা বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় মিরসরাইয়ে ৬০টি সড়ক ও ২৫টি ব্রিজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা মহোদয়ও ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে অবগত হয়েছেন।’