২৬ সেপ্টেম্বর, আল–জাজিরা বিবিসি: দক্ষিণ লেবাননের সমুদ্র তীরবর্তী টায়ার শহরে ইসরাইলী বিমান হামলার মর্মান্তিক সাক্ষী হয়েছেন । সাধারণত পর্যটকে ভরা এ শহরটি এখন প্রায় জনশূন্য। সংবাদদাতা অরলা গুয়ারিন জানিয়েছেন, টায়ারের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ পালটে গেছে। আগে যেখানে পর্যটকদের ভিড় ছিল, সেখানে এখন কেবল আশেপাশের শহরগুলো থেকে পালিয়ে আসা মানুষজন রয়েছে। যারা ইসরাইলের তীব্র বিমান হামলা থেকে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতেই এখানে এসেছেন। ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে, কারণ হিজবুল্লাহ তেল আবিবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এদিকে ইসরাইল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স উভয়েই সংঘর্ষ থামাতে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, তবে ইসরাইল এ প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে তাদের আক্রমণ আরও বাড়িয়ে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলমান হামলায় অন্তত ৬২০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এছাড়া ইসরাইলি আক্রমণের ফলে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে সীমান্তের শহরগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্রায় ৫ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
নাগরিকদের লেবাননে যেতে ‘না’ করল যেসব দেশ : লেবাননে চলছে ইসরাইলে ধ্বংসযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ ১১টি দেশ ২১ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান নাকচ করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন অবস্থায় দেশটিতে যেতে নিজ দেশের নাগরিকদের বারণ করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে রয়েছে চীন, তুরস্ক, ইতালি, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত ও মালয়েশিয়া। গত বুধবার লেবাননে ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত হয়েছে আরও ৭২ জন। এ পর্যন্ত এ সংখ্যা ৬২০ ছাড়িয়ে গেছে। লেবাননজুড়ে ইসরাইলের ব্যাপক বোমা হামলায় এখন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।