একজন অন্যজনের কাছে মিথ্যা কথা বোলো না, কারণ তোমাদের পুরানো “আমি”কে তার কাজ সুদ্ধ কাপড়ের মত ছেড়ে ফেলে তোমরা তো নতুন “আমি”কে পরেছ। এই নতুন “আমি” আরও নতুন হতে হতে তার সৃষ্টিকর্তার মত হচ্ছে, যেন সেই সৃষ্টিকর্তাকে তোমরা পরিপূর্ণভাবে জানতে পার। এই অবস্থায় অ–ইহুদী বা ইহুদীর মধ্যে, খৎনা–করানো বা খৎনা–না–করানো লোকের মধ্যে, অশিক্ষিত, নীচজাতি, গোলাম বা স্বাধীন লোকের মধ্যে কোন তফাৎ নেই; সেখানে মসিহই প্রধান এবং তিনি প্রত্যেকের মধ্যেই আছেন” (কলসীয় ৩ : ৯–১১)।
বিষয়টি হলো মৃন্ময় পাত্রে ঐশি ধন রাখা, যদিও পাত্রটি মাটির তৈরী ক্ষণভঙ্গুর সল্লদামের পদার্থ, তবুও বর্তমানে তা হয়ে দাড়িয়েছে মহামূল্যবান। পাত্রস্থিত বস্তুর কারণে পাত্রের মর্যাদা বেড়ে গেল। মানুষের হৃদয় হলো খোদার সিংহাসন, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি উক্ত সিংহাসনে থাকেন সমাসীন ততক্ষণ পর্যন্ত তা থাকে মর্যাদাবান।
মহান রাব্বুল আল–আমিন মাবুদের হাতে গড়া মানুষ হলো পূতপবিত্র, কেননা তাকে দিয়ে ঐশি অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি প্রকাশ করানো হবে। সৌরালোক থেকে আগুন পেতে হলে একটি আতস কাঁচের সাহায্য নিতে হয়। উক্ত কাঁচের মধ্যদিয়ে আলো প্রতিফলিত হলে তা আগুনে পরিণত হয়ে যায়। তবে তেমন ক্ষেত্রে আয়নাটিকে হতে হবে আবরণমুক্ত স্বচ্ছ, যেমন মসীহ হলেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, যার মাধ্যমে ঐশি নূর প্রতিফলিত হয়েছে গোটা বিশে^র উপর। কিন্তু আদম বংশ প্রথম থেকেই হয়ে পড়লো সম্পূর্ণ কলুষিত, মন্দ আর মন্দ, মানুষ হারিয়ে ফেলেছে প্রতিফলনের ক্ষমতা। তবে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা হলো, এই মানুষকে পুনরায় স্নাতশুভ্র করা সম্ভব, যে অভিনব ব্যবস্থা মানবদরদী মাবুদ নিজেই হাতে নিয়েছেন। আর তেমন ব্যবস্থা হলো, তিনি তাঁর পাকরূহকে জগতে প্রেরণ করলেন মানবরূপে, কুমারী মরিয়মের জঠরের মাধ্যমে। বিষয়টি বড়ই রহস্যাবৃত, তবুও সত্য। জীবিত মানুষ আমরা কতজন মেটাবলিজম বা বিপাক ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে জানি? যারা বিশেষভাবে এ বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন কেবল তারাই বুঝতে পারেন এবং অন্যের কাছে ব্যাখ্যা দিতে পারেন। সাধারণ মানুষ আমরা বিষয়টি না বুঝে নিয়মিত পানাহার করে থাকি, নতুবা আমরা বাঁচব কেমন করে? মহান আল্লাহপাকের কুদরতের বিষয়ে ইতিবৃত্ত আমরা কতটুকুইবা জানি?
কখন কিভাবে কোন সন্তান কোন মাতৃগর্ভে রোপীত হলো উক্ত সন্তান অর্থাৎ ভ্রƒণ বা Fetus কি দিনক্ষণ মুখস্ত রাখতে পারে? প্রশ্নই জাগে না। আমাদের দেহধারণ যেমন আর একজনের হাতে হয়েছে সম্পন্ন, ঠিক একইভাবে মানবজাতি রচিত হয়েছে মহাজ্ঞানী মাবুদের নিজস্ব প্রয়োজনে, খোদার সাথে সহভাগীতা লাভ ও অদৃশ্য মহিমা দৃশ্যমান করার মানসে। যদিও প্রথম থেকেই তারা প্রতারিত হলো অভিশপ্ত ইবলিসের কুটচালে, তথাপি কেউ যখন স্বীয় কর্মফল লাঞ্চনা গঞ্জনা ও মানবেতর অবস্থান দেখে অনুতপ্ত হয়, এবং তেমন অবস্থা থেকে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জ্ঞাপন করে, দয়াময় মাবুদ কালবিলম্ব না করে সাথে সাথে তাকে কবুল করে নেন, এবং তাকে পুনরায় স্নাতশুভ্র করে তোলেন, পরিবর্তন করে দেন তার পুরাতন স্বভাব আচরণ, মাবুদের মত নতুনরূপে গড়ে তোলেন, যেমন পূতপবিত্র মসীহ হলেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। এ গুরু দায়িত্ব যা মানুষের পক্ষে সাধন করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। তা–ই মাবুদ নিজেই তা সাধন করেন। মানুষের প্রতি সীমাহিন প্রেমের তাগিদে তিনি অনুতপ্ত গুনাহগার ব্যক্তিদের সর্বপ্রকার দ্রোহ, পাপের প্রবণতা ও কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেন। মসীহ হলেন এক বিশেষ রহমত গোটা বিশ^বাসির জন্য। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ জাতি–ধর্ম–বর্ণ–স্থান–কাল–পত্র তথা গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্যই হলেন কোরবানি; অর্থাৎ মানুষের স্থলে বিকল্প কোরবানি। মিথ্যা অহমিকায় আচ্ছন্ন ব্যক্তিবর্গ নিজেদের পরিত্রাণ নিজেরাই খুঁজে ফিরছে। কালামপাকে যেমন বর্ণীত রয়েছে, “আমার বান্দারা দু’টা গুনাহ করেছে। জীবনদায়ী পানির ঝর্ণা যে আমি, সেই আমাকে তারা ত্যাগ করেছে, আর নিজেদের জন্য এমন পানি রাখবার জায়গা তৈরী করেছে যা ভাঙ্গা, যাতে পানি ধরে রাখা যায় না” (ইয়ারমিয়া ২ : ১৩)।
অজ্ঞতাহেতু আমরা অনেক সময় অনেক কিছু করে বসি, যার কুফল আমাদের ভোগায়, আর তখনই ফিরে আসতে চাই সঠিক পথে, জীবনটাকে পুনরায় পরিচালনা করতে প্রাণপন প্রচেষ্টা চালাতে থাকি অভিষ্ট লক্ষপানে পৌছাতে, ততক্ষণে বেশ বিলম্ব হয়ে যায়, পূর্বের সহযাত্রীদের আর খোঁজ পাই না, কেননা ইতোপূর্বে তারা বহুদূর এগিয়ে গেছে। আমরা জীবনে অনেক ছবক শিখে থাকি তবে তার জন্য অনেক মাষুলও গুনতে হয়। তবে মাবুদের কাছ থেকে ওয়াদা রয়েছে অনুতপ্ত গুনাহগারদের জন্য, বিলম্ব বলতে তাঁর কাছে কোনো সমস্যাই সৃষ্টি করতে পারে না। মানুষ যেন স্বীয় ভ্রান্তির পথ পরিহার করে সত্য, সুন্দর ও জীবনের পথে ফিরে আসে। “তোমরা যারা ক্লান্ত ও বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছ, তোমরা সবাই আমার কাছে এস; আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব।” (মথি ১১ : ২৮)।
আসুন জীবনে যতই ঘাটতি থাক না কেন, পুনরায় মাবুদের কাছে ফিরে যাই, তিনি সদা প্রস্তুত আমাদের নতুন জীবন দান করার জন্য। দয়া করে শুনুন প্রেমপাগল খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ প্রত্যয়ের সাথে কি প্রতিজ্ঞা করলেন: “পিতা আমাকে যাদের দেন তারা সবাই আমার কাছে আসবে। যে আমার কাছে আসে আমি তাকে কোনমতেই বাইরে ফেলে দেব না, কারণ আমি আমার ইচ্ছামত কাজ করতে আসি নি, বরং যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছামত কাজ করতে বেহেশত থেকে নেমে এসেছি।” (ইউহোন্না ৬ : ৩৭–৩৮)