অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, দেশের সংস্কার করতে কিছুটা সময় লাগবে। সেই সময় তারা দেবেন। কারণ আমরা ক্ষমতার লোভ করি না। এ সময় ছাত্র–জনতার কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে আইন, বিচার, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে সংস্কার শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
সোমবার দুপুরে রংপুর নগরীর স্থানীয় এক কমিউনিটি সেন্টারে নাগরিক ঐক্যের জেলার মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে যারা আছেন তাদের প্রতি আমরা আস্থা রাখতে চাই। আমরা ক্ষমতার কাঙ্গাল হয়ে যাইনি। তিন মাস বা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনও চাই না। আমরা আগে সংস্কারগুলো দেখতে চাই। আমরা প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে চাই। অনুভব করতে চাই টাকার জোরে কেউ আবার ভোট প্রতিহত করতে পারবে না। টাকার জোরে কেউ গুণ্ডা বা পুলিশ কিনতে পারবে না। পুলিশকে সংস্কার করে নতুনভাবে সাজাতে হবে। যখন মনে হবে সত্যি সত্যি মুক্তভাবে মানুষ ভোট দিতে পারবে, তখনই নির্বাচন চাইব। এর জন্য কতদিন লাগবে, আমি জানি না। যোগ্য লোক দেড়–দুই বছরে শেষ করতে পারে। যদি বাধা হয় তাহলে তিন বছরও লাগতে পারে। আমাদের কাছে ক্ষমতার লালসা আসে নাই যে ছয় মাসের মধ্যে ভোট করে দিতে হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। তারপরও আন্দোলনকে সরকার হঠানোর দরজায় নিতে পারিনি। তবে এই দেশের ছাত্ররা, সোনার ছেলেরা আন্দোলনকে সফল করেছে। একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। আমরা সবাই মিলে এই নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে বুক ভরে শ্বাস নিতে চাই, প্রাণ ভরে কথা বলতে পারি, যেকোনো মানুষকে বন্ধু করে নিতে পারি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, শেখ হাসিনা একটা প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি ডলার (প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা) নিয়েছে, এরকম যত প্রকল্প আছে, সব প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তারা দেশকে উন্নয়নের নামে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দেশটা নতুন করে গড়তে সময় লাগবে।
মান্না বলেন, দেশের স্বাধীনতা একবারই আমরা লাভ করেছিলাম। কিন্তু ১৭ বছর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশটি আমরা পেয়েছিলাম সেই দেশটি আমাদের হাত থেকে ছিনতাই হয়ে গিয়েছিল। সেই ছিনতাই হওয়া দেশকে মুক্ত করে দিয়েছে ছাত্র–জনতা। অথচ আমরা আওয়ামী লীগের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে, জমি দখল নিয়ে ভাবছি। এগুলো বন্ধ করতে হবে। এগুলো চলতে থাকলে, যে লাউ সেই কদুর মতোই হবে।
এ সময় তিনি নাগরিক ঐক্যের নিজ দলের নেতাকর্মীদের দল গোছানোর আহবান জানিয়ে বলেন, ভালো মানুষ না থাকলে ঘুরে ফিরে তারাই আসবে। এজন্য দুর্বৃত্ত সরাতে হলে ভালো কিছু নিয়ে আসতে হবে। যাতে মানুষ ভোট দেওয়ার সময় ভালো মানুষকে খুঁজে পায়।
আবু সাঈদের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের কোনো দায়িত্বে রেখে তদন্ত পরিচালনা করা যাবে না। তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে।
এতে নাগরিক ঐক্যের রংপুর জেলা আহবায়ক মহিউদ্দিন আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন– ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু, নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাব প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের রংপুর জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাহিদার রহমান জ্যোৎস্না।
এরপর মাহমুদুর রহমান মান্না দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জের জাফপাড়া বাবনপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি বগুড়ার উদ্দেশে পীরগঞ্জ ত্যাগ করেন।