বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ ও নিত্যপণ্যের যৌক্তিক দর নিশ্চিত করতে তদারকি আরও বাড়িয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা পণ্যের মূল্যতালিকা ঝোলানো নিশ্চিত করা, দোকানের সামনে পরিচ্ছন্ন রাখাসহ নানা বিষয়ে নজরদারি করছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রাজাবাজার, কারওয়ান বাজার, মিরপুর–১ সহ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে শিক্ষার্থীরা তৎপর। এ ছাড়া কুমিল্লা, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বাজার তদারকিতে নেমেছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগে ক্রেতাদের পাশাপাশি খুশি বিক্রেতারাও।
এদিকে সেনাবাহিনীও এ বিষয়ে তৎপর। কারওয়ান বাজার থেকে চাঁদা নিতে আসায় গতকাল সকালের দিকে তিনজনকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। তবে তাদের নাম এবং কোন থানায় নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের বড় একটি দল সবজির আড়তে তদারকি করছে। তারা তদারকি করছেন ফুটপাতের ফলের দোকানগুলোতেও। এ সময় মাইকিং করা হচ্ছিল, আপনারা কেউ কোনো চাঁদাবাজকে টাকা দেবেন না, ন্যায্য দরে সবজি বিক্রি করবেন। গতকাল শুক্রবারও এই বাজারে শিক্ষার্থীদের দুটি দল সকাল থেকে তদারকি করে। খুচরা ও পাইকারি বাজারে পণ্যের দামের পার্থক্য, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের এমন তদারকি প্রসঙ্গে ক্রেতারা বলছেন, এভাবে দেশে পরিবর্তন আনতে পারলে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও দূর হবে। গতকাল কারওয়ান বাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল আলী সমকালকে বলেন, এটা খুব ভালো পদক্ষেপ। দাম কিছুটা হলেও কমছে। কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে পারলে মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাঁদাবাজি না থাকলে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে সবজির দর অর্ধেকে নেমে আসবে। একইভাবে অন্যান্য পণ্যের দরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।