অতীতের ঘটে যাওয়া ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়গুলো স্বল্পবিস্তর সংকলিত হয়ে থাকে বর্তমানকার পুথিপুস্তকে যা প্রজন্মকে শেখানো হয়ে থাকে অভিজ্ঞ নায়ক–নায়িকা তথা সমাজ সংস্কারক জ্ঞানীগুনী পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ হিসেবে।
ফলে প্রজন্মের মনে একটি ধারণা বদ্ধমুল হয়ে যায়, উত্তরসুরী ব্যক্তিবর্গ ছিলেন সর্বোত্তম (জ্ঞানীবর্গ) যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার ফলে মানবজন্ম হতে পারে স্বার্থক ও সুপ্রতিষ্ঠিত!
পুরাতন জামানা আসলে অন্ধকারে ডুবে থাকা দিশেহারা একটি সম্প্রদায়, যাকে বলা চলে আইয়ামে জাহেলিয়া। মনে করা হয় বর্তমান প্রজন্ম উক্ত জাহেলিয়ার কবল থেকে আমরা মুক্তি পেয়ে গেছি। বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলে প্রমাণ পাওয়া যাবে, ধারণাটি সম্পূর্ণ উদ্ভট একটা কিছু। জাহেলিয়ার যুগে যা কিছু ঘটেছে, পরবর্তী সমাজে নরঘাতি ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড প্রবল আকারে কি ঘটতে দেখা যায় না? ধরুন, ভীমের গদা দিয়ে এক আঘাতে একটি মানুষ হত্যা করা হতো, আর বর্তমানকার ভীমের গোষ্ঠি একটি মিসাইল ছুড়ে একসাথে নগর, জনপদ ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। বলুন, অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ আর বর্তমানকার আলোকপ্রাপ্ত যুগের মধ্যে কতটা পার্থক্য রয়েছে?
অতীতকে নিয়ে চর্চা করা যেন ইতোপূর্বে ভক্ষীত খাদ্য পুণরায় রোমন্থন করা, তবে তাতে নতুন কিছু পাবার সম্ভবনা খুবই কম থাকে। মানুষ হলো বর্তমান! যাকিছু ঘটে গেছে তা তো আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে অতীতের তিক্ত ও মিষ্টি ঘটনার আলোকে আমরা বর্তমানকে নতুন করে গঠন দিতে পারি।
কালামের আলোকে মানুষ হলো বর্তমান; যাকে খোদার জীবন্ত প্রতিনিধি হিসেবে সৃস্টি করা হয়েছে। খোদা হলেন এক রূহানী সত্তা যিনি মানব সমাজের কল্যাণবই অকল্যাণ খুঁজে বেড়ান না। মানুষকে তিনি স্বীয় নয়নের মণি হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে কোনো বিশেষ মানুষকে নয়। গোটা বিশ্ব হলো তার প্রিয়ভাজন প্রতিভু।
কাল হলো তিনটি– যেমন অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত। অতীত আমাদের কাছ থেকে হয়ে গেছে বিগত, ভালো মন্দ ক্রিয়াকর্মের জন্য পস্তানো ছাড়া আর কিইবা আছে আমাদের সাধ্যে? আর বর্তমান যা চোখের পলকে উবে যাওয়া ক্ষণ মাত্র। এবার থাকে অনাগত ভবিষ্যত, যার জন্য আমরা সকলে বেঁচে আছি। মানুষ নিজেকে নিজে সৃষ্টি করে নি, এক বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মানবশ্রষ্টা মাবুদ মাওলা তাকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন পার্থিব জগতের উপর এক গুরু দায়িত্ব; উদ্দেশ্য, আপামর জনগোষ্ঠির কল্যাণ বয়ে আনা।
মানুষ যখন আপন আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয় সজাগ সচেতন ও কর্মে আন্তরিকভাবে নিরলস ও নিবিষ্ট হয়, ঠিক তখন সমাজে একটা আমুল পরিবর্তন ঘটতে দেখা যায়। অনাহুত জাবর না কেটে বর্তমানের প্রয়োজনীয় কর্মকান্ডে নিবেদিত থাকা হবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
কালামপকে দেখতে পাই মসিহ সাহাবীদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন, তাদের নিয়ত পরিচালনা দান, সাহায্য করা এবং সদা নির্দেশনা দিয়ে চলেন সত্য সুন্দরের পথে মানব কল্যাণ বয়ে আনার তাগিদে এ প্রসংগে কালামপাক থেকে একটি অংশ তুলে ধরছি। পাঠককুল, আন্তরিকতা নিয়ে উক্ত অংশের মর্মার্থ অনুধাবন করবেন আশা করি। “আমার নামে যদি আমার কাছে কিছু চাও তবে আমি তা করব। “তোমরা যদি আমাকে মহব্বত কর তবে আমার সমস্ত হুকুম পালন করবে। ১৬ আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের কাছে চিরকাল থাকবার জন্য আর একজন সাহায্যকারীকে পাঠিয়ে দেবেন।” (ইউহোন্না ১৪ : ১৪ – ১৬)।