ডিকশনারী, অভিধান বা শব্দকোষ যেমন পুস্তকাকারে তৈরী করা হয়, তেমনি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস হিসেবে তা উদ্ভাবন করা চলে; অবশ্য ইলেক্ট্রনিক উদ্ভাবন ব্যবহার, বহন, হস্তান্তর করা অনেক সহজ বলা চলে। যে সকল অভিধানে যত অধিক শব্দের সংকলন থাকে, সেগুলো জনসমাজে তত বেশি সমাদৃত হয়ে থাকে, আর স্বাভাবিকভাবে আমাদের শ্রেণীতে একটি ছাত্র ছিল যাকে সকলে জীবন্ত অভিধান বলে মনে করতো। তার মুখস্ত ছিল প্রচুর শব্দভান্ডার। এক্ষেত্রে একজন জীবন্ত মানুষকেও জীবন্ত অভিধান বলা চলে। যদি তাই হয় তবে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে থাকতে হবে পারষ্পরের প্রতি প্রেম, ক্ষমা ও পুনর্মিলন, যেন সকলে মিলে ভ্রাতৃত্বের আবহে পরিপূর্ণ একটি মৌলিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে।
চরম দুঃখের বিষয় হলো, মানুষের মধ্যে অত্যাবশ্যক গুনাবলি যা হলো প্রেম, ক্ষমা ও পুনর্মিলন নামক অভিধাগুলো কালের ঝড় জলোচ্ছাসে কবে যে ধুয়ে মুছে ছাপ হয়ে গেছে তা আমরা জানিনা। অবশ্য উক্ত গুনাবলির বিলোপের ফলে ব্যক্তি জীবনে তথা সমাজে যে কুপ্রভাব পতিত হচ্ছে তা সকলে সহজেই প্রত্যক্ষ করে থাকে। দীগন্ত বিস্তীর্ণ উসঢ় মরু তথা সুজলা সুফলা সষ্য শ্যামলা ভূমির দিকে তাকালে যে কোনো ব্যক্তি এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য প্রত্যক্ষ করে থাকে, তবে যে মৌলিক কারণে এমন হলো, তা হয়তো সঠিক বিশ্লেষণ সকলে নাও জানতে পারে। সেই আদি মানুষ আদম থেকে শুরু করে অদ্যাবধি মানুষের রক্ত অর্থাৎ ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের রক্ত ক্ষরিত হচ্ছে, তেমন নরঘাতিদের অবশ্যই অমানুষ বলে সহজেই অ্যাখ্যা দিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, যে হস্ত ভ্রাতার রক্তে হয়েছে রঞ্জিত, বলুন কি করে রাখি তারে শ্রদ্ধা ভক্তির চিত্তে সঞ্চিত?
জীবন থেকে নেয়া শিক্ষা আসলে বাস্তবমুখী শিক্ষা, যে শিক্ষা যদি বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হতে দেখা না যায় তবে তা হবে কেবল বাকচারিতার বিষয়; আর তেমন শিক্ষা–কলাপ চর্চা করে গোটা বিশ^ আজ ডুবে আছে চির অমানিশায়।
বিশ্বের তাবৎ পুথিপুস্তকে যত প্রকার হেদায়েতবাণী সংকলিত রয়েছে ওগুলো যুগযুগ ধরে বিরচিত হয়ে আসছে, মানুষ হলো অভিধানসম, হেফজ করে রাখে, কেউবা আবার তার তরজমা জানতে চেষ্টা করে, তবে কোন প্রেক্ষাপটে, কোন যুগে, কার কাছে কে যে বার্তাগুলো প্রকাশ করে সে খবর খুব কম সংখ্যক লোক জানে।
মুখস্ত বিদ্যা ও কাগজে কলমে দাগ কাটা দলিল দস্তাবেজ অতীব প্রয়োজনীয় প্রমান বহন করে, কিন্তু ব্যক্তি জীবনে উক্ত ঘোষণাপত্রের থাকতে হবে বাস্তব প্রয়োগ, অন্যথায় তা হবে রূপরংগে প্রস্ফুটিত সুপক্ক মাকালসম; যার বাহিরটা নয়নকাড়ে বটে, তবে ভিতরটা সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।
মানব সমাজ বরাবর তিমিরে বিচরণ করে চলছে, তা মাটির গড়া প্রথম মানুষটিকে আদৌ বাদ দিয়ে নয়। কোনো ব্যক্তিকেই নির্দোষ বলা সম্ভব নয়। তাছাড়া মাটির মানুষের পক্ষে রূহানি স্বভাব আচরণ বাস্তবায়ন আদৌ কি সম্ভব! মহব্বত ও ক্ষমা উৎপাদন করে পুনর্মিলন; যে ক্ষেত্রে এই দু’টি ঐশি গুণ কার্যকর না থাকে তথা পুনর্মিলনের প্রশ্নই জাগে না।
মন্ত্রবেত্তাগণ সাধারণ মানুষকে যা কিছু শেখায় তা তো একই মন্ত্র পৌণপুনিক অংকের মত আওড়াতে তাগিদ দেয়; বাস্তবে উক্ত নির্দেশবলী ব্যক্তি জীবনে তথা সমাাজ দেহে বাস্তবে প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন আনয়নের উপর কোনো গুরুত্বারোপ করে না। আসলে মাটির দেহে রূহানী নির্দেশনা প্রয়োগ করবেইবা কেমন করে। আদম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সকলেই কথার ফুলঝুড়ি উড়িয়ে আসছে যা বিশ্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করা হলে পরিষ্কার প্রমাণ মিলবে।