‘পানি একনা টান ধরলেও ফির বাড়ছে। হামার ঘরত এলাও এক গলা পানি। বাঁধত যায়া উঠছি। তোমার নৌকা দেখি আসলং কিছু পাবার আশায়।’
গতকাল বুধবার সকালে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ভগবতীপুর চরের কৃষক সোলেমান মিয়া। গত সাত দিন ধরে বানভাসি সোলেমান মিয়ার পরিবার। তিনি জানান, বন্যার এই সময়ে পরিবার নিয়ে মারাত্মক কষ্ট করে চলছেন। সকালে খেয়েছেন মুড়ি আর কাঁঠাল। দুপুর ও রাতে কী খাবেন, জানেন না। স্ত্রীকে রেখেছেন উঁচু বাঁধে। নিজে দিনের বেলায় এসে নৌকায় করে ভিটা পাহারা দিচ্ছেন। পাশ দিয়ে নৌকা যেতে দেখলেই ছুটে আসছেন ত্রাণের আশায়।
সোলেমানের মতো ৩০০ পরিবারের বসবাস এই চরে। এখানকার সব বাড়ি এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পাশেই সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর পার্বতীপুর। এই চরে পরিবারের সংখ্যা ২৫০টি। চরের অধিকাংশ মানুষ বর্তমানে নৌকায় বসবাস করছেন। নৌকাতেই চলছে রান্না, থাকা–খাওয়া। কথা হয় তেমনই পাঁচ সদস্যের পরিবারের গৃহিণী সালেহা বেগমের সঙ্গে। মাঝারি একটি নৌকায় রান্না করতে করতে তিনি বলেন, ‘সাদা মাড় ভাত আর কাঁঠালের বিচি সিদ্ধ। ৩–৪ দিন থাকি খালি চিড়া–মুড়ি খায়া আছি। কদ্দিন আর প্যাটত সয় এগলা! আজ ১০ কেজি করি সরকারে চাউল দিছে। সেই চাউল ধুয়া ভাতত কাঁঠালের বিচি সিদ্ধ বসায় দিছি। তিন দিন পর আজ ভাত খামো।’
টানা ১০ দিন ধরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চল। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও প্রধান নদ–নদীর পানি গতকাল সকাল থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদ বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারের পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলাসহ অন্যান্য নদ–নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, বন্যা মোকাবিলায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৫৪২ টন চাল, ৩২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ২৩ হাজার ১২০ প্যাকেট শুকনো খাবার ৯ উপজেলায় বিতরণ করা হচ্ছে।
ত্রাণ না পেয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও
ত্রাণের দাবিতে গতকাল দুপুরে চিলমারী উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বানভাসিরা। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান শাহিন বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি বলেন, বরাদ্দ পাওয়া ত্রাণ দুর্গতদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনকে আরও ত্রাণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।