সংবিধান/শাসনতন্ত্র/গঠনতন্ত্র/constitution ইত্যাদি মানুষের জন্য, মানুষের দ্বারা, মানুষের কল্যাণজনক পদক্ষেপ নেবার জন্য এ সকল বিধি ব্যবস্থা রচনা ও প্রবর্তন করা হয় এবং বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ করার পরবর্তী ফলাফল নিয়ে গুরুত্বারোপ করে একটি সঠিক গঠনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়, যা বিশ্বের অধিকাংশ জনগোষ্টি পর্যায়ক্রমে নিজেদের প্রয়োজনে তথা কল্যাণে গ্রহন করে থাকেন।
প্রথমে নিয়মকানুন রচনা করা হয়, তারপর তা কার্যত: প্রয়োগ করে শুভ অশুভ ফলাফল যাচাই বাছাই করে জনকল্যাণে সর্বোত্তম পথটি খুঁজে নেয়, যা পেতে নানা প্রকার পরীক্ষা–নীরিক্ষার প্রয়োজন পড়ে এবং পরিশেষে একটি উত্তম ব্যবস্থায় উপণীত হতে পারে। হাজার প্রকার বিষয়ের মধ্য থেকে রাষ্ট্রীয় সংবিধান নিয়ে একটি অসুবিধা তুলে ধরছি। বিগত ১৯৪৭ সনে ভারতবর্ষ স্বাধীন হলো বৃটিশ বেণীয়াদের শাসন, শোষণ, নির্যাতনের বলয় থেকে।
অবশ্যই ভাষা ফুরিয়ে যাবে বৃটিশদের গুণকীর্তন করতে গিয়ে শোষিত, নির্যাতিত, ভাগ্যাহত ব্যক্তিদের সাথে ভাল আচরণ করার প্রশ্নই জাগে না। যদিও বৃটিশ সম্রাজ্যবাদদের ভারতবর্ষ থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে তাড়ানো হয়েছে, তথাপি ওদের রাজত্বের যবনিকা পাতের মুহুর্তে দেশ ভাগের দায়িত্ব তাদের হাতেই তুলে দেয়া হয়েছিল, যা ছিল স্বাধীনতাকামী ভারতবাসিদের একটি চরম ভ্রান্তি, যার কুফল আজ পর্যন্ত আমাদের তীলে তীলে ভুগতে হচ্ছে।
অগণীত দৃষ্টান্তে মধ্যে একটা তুলে ধরছি। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে সীমারেখা টানতে গিয়ে স্বজন–প্রিয়জন পরষ্পর জানের দুষমণে পরিণত হতে দেখেছি। যেমন একটি বাড়ির মাঝখান দিয়ে তারকাটার বেড়া টেনে দেয়া হয়েছে। তাদের পাকের ঘর পড়েছে ভারতে আর সোভার ঘর পড়েছে বাংলাদেশে। এক ভাাই পড়েছে ভারতে আর এক ভাই বাংলাদেশে। তাদের পুকুরের একটি অংশ ভারতে আর একটি অংশ বাংলাদেশে। নির্মম বা রূঢ় বাস্তবতা হলো সীমানা বলতে দুই দেশের মাঝখানে একটি বিশাল ভূমি যা পরিত্যাগ করে রাখা হয়েছে, ফলে উভয় দেশের ফসলী জমি নষ্ট করা ছাড়া আর কি হতে পারে? সীমানা পিলার কাঁটাতারের বেড়া, প্রহর যারা নিয়ত বাংলাদেশের মানুষ হত্যা করে চলছে তার হিসেব রাখার কোনো রেজিষ্টার আছে বলে মনি করি না। অবশ্য মাঝে মধ্যে বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড এ দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হবার কথা শোনা যায়।
৫/৭টি ঘর নিয়ে যে বাড়িটির উপর দিয়ে দুই দেশের সীমানা টানা হয়েছে, তাদের চলাচল কিভাবে আর সম্ভব রইলো? সহোদর ভাই আপন ভাইয়ের পাশে আর দাড়াতে পারলো কোথা? একজন ইন্ডিয়ান আর একজন বাংলাদেশি। বড়ই অদৃশ্যের পরিহাস! প্রশাসনিক অবকাঠামো নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে সংবধিন নামক পুস্তকের আলোকে যা দেশের জ্ঞানীগুনি ব্যক্তিদের সমন্বয়ে, জনকল্যাণকল্পে নিধানকল্পে বিরচিত হয়ে থোকে। যেমন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছেন ড. কামাল হোসেন এবং তাঁর সহযোগী পন্ডিতবর্গ। তা একবারেই একটি পুস্তক সার্বিক দিক দিয়ে পরিপূর্ণ পায় না; সংশোধন বিয়োজন, পরিশোধন, সংযোজন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হয় পরিপূর্ণতা লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত। তা ভারত বাংলাদেশ সীমানা নিয়ে পর্যবেক্ষণ কার প্রয়োজনীয়তা কি ফুরিয়ে গেছে? এ সীমানা নিয়েও আসু সংশোধন করার প্রয়োজন যে রয়েছে তা সীমান্তে হত হওয়া ব্যক্তিবর্গ রক্তের অক্ষরে নিয়ত লিখে যাচ্ছেন; আনপড় লোকজন কি করে তা পড়বে বলুন?