টানা বর্ষণে শেরপুরের দশানী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্ষার শুরুতেই এসব নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে বাড়ি–ঘর, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস স্থানীয় কর্মকর্তাদের।
গত দুই বছরে দশানী নদীর ভাঙ্গনে ৬নং চর গ্রামের অনেক পরিবারের বসতভিটা, কবরস্থানসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকের জায়গা–জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় মাথা গোঁজারঠাঁই নেই।
এ বছরও মওসুমেরনশুরুতেই দশানি নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে গত তিন দিনেই আবাদী জমি, একটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ছয়নং চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও দুটি মাদ্রাসা, পোষ্টঅফিস, গ্রামের রাস্তা ও গোরস্থান। আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে মানুষ। অনেকেই শঙ্কায় আছেন, কখন তাদের বাড়িঘর ও জমি নদীগর্ভে চলেযায়। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে এ এলাকার বসতবাড়ি, জমি ও প্রতিষ্ঠান।
ছয় নং চরের আজাদ মিয়া বলেন, দুই বছর ধরে খুব বেশী ভাংতাছে। অতিবাত ভাংতাছে, গত বছর একটু ফিরফার করলো, এসন আবার ভাংতাছে, মসজিদ আছে, মাদ্রাসা আছে, গোরস্থান আছে, এগুলো আপনারা যদি দেহেন তাইলে এহনি দেহন নাগবো। আপনারা একটু চেষ্টা কইরা একটু দেহেন।
গত বছর অনেক গুইলা বাড়িঘর ভাইংগে নদীর ওইপারে গেছেগা। এ বছরের শুরুতে পাইলিং করা না গেলে তাহলে এবার থাহা কষ্ট হয়ে যাবোগা।
সফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর হুছনারা এমপি আইয়া একটু বস্তা ফেলছিলো, এবছরও ভাংতাছে। এহন যদি না বান্ধে তাইলে এহানে থাহাডা অসম্ভব হইয়া যাবোগা।
আমাদের ৬নংচর প্রাইমারী স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা রাস্তাঘাট .ঈদগাহ মাঠ বিলীন হইয়া যাবে নদীতে। অতি জরুরী যদি ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে এগুলো রক্ষা পাবে তানাহলে বিলীন হইয়া যাবোগা।
আজগর আলী বলেন, আমগরে সবকিছু ভাইংগে নিতাছেগা। আপনারা আইয়া দেইখা যান, তাইলে বুঝবেন। আমরা খুব কষ্টের মধ্যে, আতঙ্কের মধ্যে আছি। আপনারা যদি একটু বাইন্ধে দেন তাইলে বাড়ি–ঘরে থাকবার পামু, তা–না অইলে দেশ ছাইরে যাওন নাগবোগা।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নকিবুজ্জামান খান বলেন শেরপুরের বেশকয়েকটি নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সেগুলোর স্থায়ীভাবে ব্যবস্থার করার জন্য আমরা ডিপিপি দিয়েছি। এই নদীর ভাঙ্গন এলাকা আমরা অবজার্ব করতাছি, সেখানে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। সমস্যা বেশী দেখাদিলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।