হিট এলার্ট অব্যাহত : সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে পাবনায় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি হ তাপপ্রবাহের বিস্তার : পুড়ছে ফল–ফসল চৌচির মাঠ–ঘাট খাল–বিল
তাপপ্রবাহ ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দিন আরও ঊধ্বমুখী হচ্ছে তাপমাত্রার পারদ। উচ্চতাপে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রচÐ গরমে পুড়ছে ফল–ফসল। ফেটে চৌচির হয়ে গেছে খাল–বিল মাঠ–ঘাট–প্রান্তর। প্রাণ ওষ্ঠাগত মানুষ, প্রাণিকুল, উদ্ভিদরাজির। তাপপ্রবাহের কারণে আবহাওয়া বিভাগের জারি করা হিট এলার্ট অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আরও বর্ধিত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ^রদীতে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা আরও বেড়ে হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৭.৭ এবং সর্বনিম্ন ২৮.৭ ডিগ্রি সে.। সমগ্র দেশে আবহাওয়া বিভাগের (বিএমডি) ৪৪টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গতকাল ৩৯টিতেই মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহের রেকর্ড পাওয়া গেছে। আবহাওয়া বিভাগের তাপমাপক মাপকাঠিতে ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রির ঊর্ধ্বে গেলে তা অতি তীব্র ধরনের তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আগামী রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টির সাথে চলমান তাপপ্রবাহের উন্নতি এবং তাপমাত্রা হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানান, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট অর্থাৎ দেশের সবক’টি বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
গতকাল দেশের অন্যান্য জায়গায় আরও উল্লেখযোগ্য উচ্চ তাপমাত্রা ছিলÑ সৈয়দপুরে ৩৯.৪, দিনাজপুরে ৩৯.৩, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে ৩৯.২, ডিমলায় ৩৯, রাজশাহীতে ৩৮.৮, রাঙ্গামাটিতে ৩৮.৫, সীতাকুÐে ৩৮.৩, রংপুরে ৩৮.২, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৩৮.১, টাঙ্গাইলে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপপ্রবাহ বিস্তারের সাথে সাথে মানুষের কষ্ট–দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। সেই সাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নানামুখী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উচ্চতাপ ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে জ্বর–সর্দি–কাশি, ডায়রিয়া, শ^াসকষ্টসহ নানাবিধ রোগব্যাধি ছড়িয়ে পেড়েছে। হাসপাতাল–ক্লিনিক ও ডাক্তারের চেম্বারে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর ভিড়। গত বুধবার আবহাওয়া বিভাগের জারি করা হিট এলার্ট সতর্কবার্তায় বলা হয়, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে চলমান তাপপ্রবাহ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরমে–ঘামে জনজীবনে অস্বস্তি অব্যাহত থাকবে।
আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর–পূর্বাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরমে–ঘামে অস্বস্তি বিরাজ করবে।
আগামী রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা, ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ দেশের উত্তর ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গা থেকে কমতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা এক থেকে ২ ডিগ্রি সে. হ্রাস পেতে পারে। রাতের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
এর পরের ৫ দিনে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর–পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।