গাছ থেকে আগাম গুটি জাতের আম পাড়ার মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমের মৌসুম শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী গতকাল বুধবার এ জেলায় আম পাড়া শুরু হয়। তবে বাজারজাতকরণ এখনও সেভাবে শুরু না হলেও গত বছরের তুলনায় এবার গুটি আমের দাম প্রায় তিন গুণ হাঁকছেন চাষিরা।
সকালে রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকার মৌগাছি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কিছু বাগানের গাছ থেকে গুটি আম পাড়া হচ্ছে। মিলন নামে এক চাষি বলেন, এবার আমের ফলন খুবই কম। তবে দাম চড়া। গত বছর যে গুটি আম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে, এবার তা দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ফলন কম হলেও ভালো দাম থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।
ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ভালো জাতের গুটি আম এখনও পরিপক্ব হয়নি। এবার দেরিতে মুকুল আসায় আম পরিপক্ক হতে আরও এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময় লাগবে। আপাতত আচারের জন্য আম পাড়া হচ্ছে।
এদিকে রাজশাহী জেলার আমের সবচেয়ে বড় বাজার বানেশ্বর সকালে প্রায় ফাঁকা ছিল। মৌসুমের প্রথম দিন হাটে তেমন আম উঠতে দেখা যায়নি। দু–একজন চাষি গুটি আম নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তদাররা কিনে নেন।
বানেশ্বর হাটের আড়তদার নজরুল ইসলাম বলেন, সামান্য কিছু আম উঠেছিল; সেগুলো আড়তে আসতে না আসতেই বিক্রি হয়ে যায়। এসব আম আচার বানাতে কিনবেন ক্রেতারা। গত বছরের তুলনায় এবার আমের দাম দ্বিগুণেরও বেশি। ভালো জাতের আম উঠলে তার দামও বেশি হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে সালমা বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করার দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী গতকাল গুটি জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, লখনা ও রানীপছন্দ আম ২৫ মে থেকে, হিমসাগর ও ক্ষীরশাপাতি ৩০ মে, ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম ১০ জুন, আম্রপালি ও ফজলি আম ১৫ জুন থেকে পাড়া যাবে। আশ্বিনা ১০ জুলাই ও গৌড়মতি ১৫ জুলাই থেকে পাড়তে পারবেন চাষিরা। ২০ আগস্ট থেকে বাজারে উঠবে ইলামতি জাতের আম।