আজ মহান মে দিবস। এটি শ্রমজীবীদের দিন হলেও দিবসটি সকল চাকরিজীবীদের ছুটির দিন। এমন দিনেও ছুটি নেই কৃষকের। এমন চিত্রই দেখা গেল কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের বরইতলা এলাকায়।
দেশজুড়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপদাহ। একদিকে বাইরে প্রখর রোদ, প্রচণ্ড তাপ। অন্যদিকে জমিতে পেকে আছে বোরো ধান। কৃষকরা জানান, তীব্র এই তাপদাহ জনজীবনে অস্বস্তি নিয়ে আসলেও বোরো ধানের জন্য যাচ্ছে সেরা সময়। তাই কৃষকরা এমন দুঃসহ গরমেও মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সকাল–সন্ধ্যা ধান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের বরইতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষক হাসান মিয়া তার জমির ধান কেটেছেন। জমিতে আনা হয়েছে ডিজেলচালিত মাড়াই কল। ধানের আঁটিগুলো মাড়াই কলের কাছে স্তুপ করে সাজিয়ে রাখছেন। একই এলাকার বাদল মিয়াসহ ৪ মাড়াই শ্রমিক এসব ধান মাড়াই করছেন।
এ সময় তাদের প্রশ্ন করা হয়, আজ মে দিবস। ছুটির দিন। জানেন কি না? উত্তরে জানান, লোকমুখে শুনেছেন।
তারা হেসে বললেন, ‘আমাদের কি আর ছুটি আছে। ধান পেকে আছে। একদিন রোদ পাওয়া মানে আমাদের ভাগ্যের ব্যাপার। আমাদের ছুটি নাই। কত তাড়াতাড়ি ধান কেটে মাড়াই করে শুকিয়ে গোলায় তোলার ব্যবস্থা করবো পারব, আমাদের সেই চিন্তা করতে হয়। বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলেই তো বিপদ।’
হাসান মিয়া জানান, তিনি ১৮ শতাংশ জমিতে ব্রিধান–২৯ আবাদ করেছিলেন। ভালো ফলনও পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কোনো শ্রমিক কাজে লাগাননি। নিজেই ধান কেটেছেন। এখন মাড়াই কল এনে মাড়াই করাচ্ছেন। মাড়াই কল মালিকরা প্রতি ১০ মণ ধান মাড়াই করলে এক মণ ধান তাদের দিতে হয়। এভাবেই ধান মাড়াই করা হয়।