গোটা বিশ্ব–ইতিহাসকে আমরা দুটো ভাগে ভাগ করে রেখেছি; যেমন বিসি (B.C) এবং এডি (AD) প্রভুর আগমন বা আবির্ভাব কেন্দ্রীক। আমরা বলতে পারি, প্রতারণা ও অবাধ্যতার কারণে মাটির গড়া আদমের কাছে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হলো আর সেই কাঙ্খিত স্বাধীনতার সূর্যের পুনরুদয় হলো ঐশি পুরুষ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের আবির্ভাবের মাধ্যমে, বিশ্বাবাসির পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ হলো ঐশি নন্দন ঈসা মসীহের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে।
অবাধ্যতা, খোদাদ্রোহীতা ও পাপের কারণে যতপ্রকার অভিঘাত মানুষের উপর নেমে এসেছে, যা মানুষকে অমানুষে পরিণত করলো, যে সকল লাঘব অপসারণ করা তাদের কব্জায় ছিল সম্পূর্ণ অসম্ভব, তা মসীহের মুখের কথায় হয়ে গেল দূরীভুত; মানুষ ফিরে পেল তার হারানো অধিকার, মানমর্যাদা, চোখের নজর, উষর মরু সম হৃদয়ে ফিরে এলো ঐশি প্রেমধারা, যেমন মরুভূমিতে বহানো হলো জলপ্রবাহ, হয়ে গেল সকল বৈষাম্য তথা উচু–নিচু সমান, পুনর্বার মানুষ নিজেদের চিনে নিতে পারলো; তাদের আসল পজিশন, যা অন্ধকারে জীবন যাপন করার ফলে কিছুই উপলব্ধি করতে পারে নি; আলোর রাজ্যে হয়ে গেল সবকিছু পরিষ্কার, ভ্রাতা–ভগ্নি প্রেমের আতিসহ্যে পরষ্পর হলো একাকার। আজ আমরা জীবন পেয়েছি, পেয়েছি জীবনের উদ্দামতা, স্বার্থক জীবন, উপচেপড়া জীবন (ইউহোন্না ১০ : ১০)। হৃদয়জুড়ে আলো ও প্রেমের অনন্ত ঝর্ণাধারা যা নিজেকে শিক্ত করে তথা আশপাশের সকলকে করে তোলে স্নাতশুভ্র; জনে জনে বয়ে চলে প্রবাহধারা, আলোর কেতন, আলোর বন্যা।
সত্যের আগমনে ও ঐশি বাণী ঘোষণার ফলে মানব হৃদয় থেকে সার্বিক মিথ্যাচার কর্পুরের মত উবে গেছে। যেমন আলোর আগমনে কালের স্তুপিকৃত অমানিশা কোথায় যে হারিয়ে যায় তা কি আপনি খুঁজে পাবেন, প্রশ্নই জাগে না! প্রদীপ্ত শিখা হাতে নিয়ে নির্ভয়ে দাড়িয়ে থাকুন, আপনাকে দেখে আধারের হোতা তথা আধারের কীট ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবে। সত্যের মুখোমুখী হবার কোনো সৎ সাহস নেই মিথ্যাবাদী অলীক জনগোষ্ঠির। চাই নিরেট সত্য, সত্য সেনানী, যারা সর্বস্তরে, সর্বপরিস্থিতিতে থাকেন অকুতোভয়। বলুন, এমন কোন গ্রহ আছে, তা যতই বিশাল হোক না কেন, পারবে কি সূর্যকে ছায়া দিয়ে ঢেকে দিতে? এমন কোন যাদুমন্ত্র আছে যা ঐশি পরিকল্পনা গুলিয়ে ফেলবে?
শাখা প্রশাখা যতদিন থাকে কান্ডের সাথে যুক্ত ততদিন তাদের কোনো উদ্বেগের কারণ থাকতে পারে কি? বেঁচে থাকা, কলায় কলায় প্রবৃদ্ধি লাভ ও পরিপূর্ণতা তথা বিকাশ লাভ করা প্রভৃতি সবই বৃক্ষের দায়িত্ব, কেননা বৃক্ষ তো শাখা প্রশাখার দ্বারাই এক কালের মহীরুহে হয়ে ওঠে পরিণত। বৃক্ষের ফুল ফল প্রকাশ পায় ডালপালার মাধ্যমে যা কতইনা স্বাভাবিক।
মহাপরাক্রান্ত অদৃশ্য খোদা নিজেকে প্রকাশ করেছেন প্রকৃতির মাধ্যমে, তারপর নবী–রাসুলদের মাধ্যমে এবং পরিশেষে স্বীয় একজাত পুত্রের মাধ্যমে, যিনি হলেন ঐশি খোদার হুবহু বাস্তব প্রকাশ (কলসীয় ১ : ১৫, ইব্রানী ১ : ১–৩)।
প্রিয়জনকে যে নামে ডাকুন না কেন তিনি সাথে সাথে বুঝে নিতে পারেন, আপনি যে তার উপস্থিতি কামনা করছেন। গানের সুরে তাই যথার্থ বর্ণীত রয়েছে, “চোখ যে মনের কথা বলে” তবে তেমন চোখের ভাষা বুঝতে হলে মনের মত মন থাকা চাই। চোখের উপর যখন ছানি পড়ে তখন গোটা বিশ্ব ঘোলাটে হয়ে পড়ে, আসলে দৃশ্যপট ঠিকই থাকে, বদলে যায় কেবল দৃষ্টি শক্তি, চাই তার নতুন লেন্স, স্বচ্ছ দৃষ্টিশক্তি।
মসীহ হলেন মানুষের কন্টাক্ট লেন্স, জীবনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও উপচয়। তিনি এসে মানুষের কলুষিত হৃদয় অপসারণ করে হেথা পুনস্থাপন করেন তাঁর ঐশি পূতপবিত্র প্রেমার্দ্র হৃদয়, যার ফলে এককালের পামর পরিণত হয়ে ওঠে প্রেমের ফল্গুধারায়। যেমন মাটির ঢেলা গোলাপের সাহচর্যে সুবাসবাহী বস্তুতে পরিণত হয়ে উঠলো।