পৌষের শেষ শীতেই এবার গাছে গাছে উঁকি দিতে শুরু করেছে আমের মুকুল। আম গাছের ছোট ছোট ডালের সবুজ পাতার মাঝে হলদেটে মুকুল–ঝুরি যেন কনক প্রদীপ হয়ে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই মুকুল ঝুরিগুলো প্রস্ফুটিত হবে মঞ্জরিতে। আম গাছগুলো সজ্জিত হবে সাদা, বেগুনী ও হলদেটে ফুলে ফুলে পুষ্পরানীর সাজে। গাছে গাছে মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের ম–ম গন্ধে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হবে নতুন ছন্দের।
কয়েক মাসের মধ্যেই গাছের ডালে ডালে ঝুলবে নানা জাতের আম, নানা বর্ণের আম। ফলের রাজা আম নিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যে রয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা এবং প্রবাদ–প্রবচন। উপমহাদেশ তথা বিশ্ব বিখ্যাত নারী জ্যোতিষী খনার বচনে বলা হয়েছে ‘মাঘে বোল, ফাগুনে গুটি, চৈত্রে কাটিকুটি, বৈশাখে আঁটি, জ্যৈষ্ঠে দুধের বাটি’। খনার এই প্রবচনটি ছিল বাংলাদেশে আমের মুকুল ধরা থেকে শুরু করে আম পাকা এবং দুধ মিষ্টি দিয়ে আম খাওয়ার সময়সীমা।
কিন্তু বিশ্ব জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ আমের ফলনের সময়–সীমার উপরে রচিত যুগ যুগের পুরনো খনার এই বচনটি এখন উলটপালট হয়ে গেছে। এখন মাঘ মাসে আর আমের মুকুল ফোটে না। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ আম ফলনের সময়সীমায় ব্যাপক তারতম্য দেখা দিয়েছে। গত বছর আমের মুকুল ফুটে মধ্য মাঘে। এর আগের বছর আমের মুকুল দেখা দেয় ফাগুন মাসের মধ্যভাগে। এ বছর পৌষের পৌষের শেষে আম গাছে মুকুল ঝুরি দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আল রানা জনকণ্ঠকে বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা লাভবান হবে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারে শীতের শুরুতেই কিছু কিছু গাছে মুকুল এসেছে। আবার কিছু কিছু গাছে মাথা ফেটেছে। এ ফাটা জায়গা থেকেই নতুন মুকুল বা পাতা বের হয়।
তবে আরও ১৫/২০ দিন গেলেই হয়তো সব গাছেই মুকুল আসতে শুরু করবে, ফুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে পুষ্প মুঞ্জতিতে পাাউডারি মিলডিউ অ্যানত্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এতে গাছের পাতা মুকুল ও কচি আমে কাল দাগ পরে। প্রাকৃতিক পরাগায়নের জন্য আম বাগানে মৌমাছি পালন এবং বাগানের চারদিকে ফলের গাছ রোপণ করলে ভাল হয়।