ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সাথে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা–সংঘাত বেশ প্রকট আকার ধারণ করেছে। একদিকে তো ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে প্রায় নিয়মিতই হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এবার ইরাকে ইরান–সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর আক্রমণ করেছে দেশটি। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরাকে ইরান–সমর্থিত মিলিশিয়াদের ব্যবহৃত তিনটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘কাতাইব হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ইরান–সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে’ এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি জানান, ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ও জোট মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলার ‘সরাসরি প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে নির্ভুল এই হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সে সময় জানিয়েছিলেন, ইরান–সমর্থিত একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট দিয়ে আল আসাদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আর এই ঘাঁটিতেই আমেরিকান সৈন্যরা অবস্থান করছেন।
পরে অবশ্য ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামে পরিচিত একটি দল ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সূত্র অনুসারে, এই গোষ্ঠীটি ২০২৩ সালের শেষের দিকে আবির্ভূত হয় এবং ইরাকে পরিচালিত বেশ কয়েকটি ইরান–সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্যান্য হামলার দাবিও করেছে এই গোষ্ঠীটি।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ‘আইএসআইএস (ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীকে) আরও নির্মূল ও অবনমিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ইরাকে বুধবারের হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনায় মার্কিন সেনা সদস্যদের ‘পেশাদারিত্বের’ প্রশংসা করেছেন’।
লয়েড অস্টিন জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকান স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না’।
তিনি জানান, ‘আমরা এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়াতে চাই না। তবে আমরা আমাদের জনগণ এবং আমাদের সুযোগ–সুবিধা রক্ষার জন্য আরও ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। আমরা এই গোষ্ঠীগুলো এবং তাদের ইরানি পৃষ্ঠপোষকদের অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, গত ২০ জানুয়ারি পশ্চিম ইরাকের আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার জবাবে ইরাকে বুধবারের এই হামলা চালানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১২টায় এই হামলা হয় বলেও জানানো হয়।
সেন্টকম বলেছে, ‘(কাতাইব হিজবুল্লাহর) সদর দপ্তর, স্টোরেজ, এবং রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও একমুখী আক্রমণ চালানোর প্রশিক্ষণের স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।’
অবশ্য ইরাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া এই মিলিশিয়া স্থাপনাগুলো ঠিক কোথায় অবস্থিত সে সম্পর্কে কোনও বিবরণ দেয়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
উল্লেখ্য, গাজায় বর্বর হামলা চালানো দখলদার ইসরায়েলকে অস্ত্রসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়ায় ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এ বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের সেনাদের ওপর ১৪০ বারেরও বেশি সময় হামলা চালিয়েছে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। আর এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এসব গোষ্ঠীর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া গত ৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানপন্থি একজন কমান্ডার নিহত হন। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই কমান্ডার তাদের সেনাদের ওপর হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডারের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয় ইরাক।
পরে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলে।