অনেকের মনে কতকগুলো অমুলক প্রশ্ন জাগে, ফলে সদা থাকে তারা দ্বিধাগ্রস্ত, শঙ্কিত।
জগতে কোনো কিছু করার জন্য প্রেরণা বহির্মূখী তাগিদ পূর্বশর্ত হিসেবে চাপ দিতে থাকে, থাকে বাধা–বিপত্তি, জীবন পথে চলতে গিয়ে বহুবিধ অন্তরায় ডিঙ্গিয়ে তবে এগোতে হয়; যা অতীব স্বাভাবিক মনে করে সকলে মেনে নেয়।
রাজ পথ, জল পথ ও আকাশ পথ যদিও তিনটি ক্ষেত্রে মৌল বিষয় হলো পথ, মনে হবে, তিন প্রকার পথ নির্মাণ করার জন্য সমশ্রম, সমমেধা সমান ঝক্কি পোহাতে হবে, আসলে ভূমির উপর পথ প্রস্তুত করণ, আর জল পথ ও আকাশ নিয়ে ভাবনা কষ্মিণকালেও একই প্রকারের হবার নয়। জলপথে মাঝে মধ্যে খনন করে তবে নাব্যতা ধরে রাখতে হয়, আকাশ পথের জন্য আপনার করণীয় কর্মকান্ড এমন কি হতে পারে, ভেবে বলুন! এবার আলোকপাত করা যাক খোদার পথ নিয়ে। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ অবশ্য প্রত্যয়ের সাথে বলেছেন; তিনিই হলেন প্রকৃত পথ, সত্য ও জীবন। উক্ত পথ ব্যতিত পিতার কাছে পৌঁছা কোনো ব্যক্তির পক্ষে আদৌ সম্ভব নয় (ইউহোন্না ১৪ : ৬)।
এবার প্রশ্ন জাগে, তবে কার হাতে সৃষ্টি হলো এমন পথ? আর তা প্রযোজ্য হবে গোটা বিশ^বাসির জন্য সমহারে। যেহেতু জগতের কোনো ব্যক্তির দ্বারা উক্ত পথ সৃষ্টি হয় নি তাই উক্ত পথে চলার জন্য পার্থিব অধিকারীদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেবার প্রয়োজন পড়ে না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজস্ব আগ্রহ ঐকান্তিকতা হলো আসল ও মৌল চাহিদা। তাহলে আমাদের প্রস্তুতি ও শর্ত হলো যিনি হলেন একক ‘পথ সত্য ও জীবন’ কেবল তার মধ্যে ডুবে যাওয়াই হবে পথিকের জন্য একমাত্র শর্ত। যেমনটা আমরা চলার পথে পথের মধ্যেই ডুবে যাই সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যাবার জন্য। পথচ্যুত হলে বা ভুল পথে হাটলে পারব কি কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছাতে? প্রশ্নই জাগে না। আপনি যখন উক্ত পথের পথিক হলেন তখন আপনার আস্থা ও বিশ^াস রাখতে হবে তাঁর উপর যিনি আপনাকে তেমন পথের সন্ধান দান করেছেন। এ ক্ষেত্রে আপনার শরীর, অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ, পর্থিব সহায় সম্পদ অন্তরায় বা সহায়ক হতে পারে কি? একটু ভেবে দেখুন, তিনি হলেন আপনার জন্য একক সহায়, যিনি আপনাকে কোনো অবস্থায় পরিত্যাগ করবেন না। তাঁকে আপনার গৃহে সম্মানিত মেহমান হিসেবে সমাদরে বরণ করতে গিয়ে আপনাকে হিমসিম খেতে হবে না। নন তিনি ক্ষনিকের মেহমান, তবুও তাঁর জন্য বিশেষ কিছু আয়োজন করার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থাকতে পারে না (ইউহোন্না ৫ : ১৪)। কেননা তিনি হলেন এক রুহানী সত্ত্বা, থাকেন সদা শততার শীর্ষে। আর একটি কথা হলো, তাকে হৃদয়াভ্যন্তরে স্থান দিতে কোনো বাহ্যিক বা শারীরিক অথবা বৈষয়িক কোনো পরিবর্তন করার আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। আপনার নামধাম পরিবর্তন করার তাগিদ তিনি দেন নি, এগুলো মধ্যসত্ত¡ ভোগীদের দু’পয়সা অতিরিক্ত আদায় করার কারণে উদ্ভাবন করা। বর্তমান সমাজ অর্থাৎ মানব সমাজ হয়ে আছে অগণিত খন্ডে খন্ডিত! ভাবতে বেশ কষ্ট লাগে; একই ব্যক্তির ঔরষজাত সন্তান হলো এরা। যেমন যে কোনো খর¯্রােতা নদীর প্রসঙ্গে আসা যাক; উক্ত নদের উৎপত্তিস্থল আর তার মোহনার অবস্থার পরিসরের কথাই চিন্তা করুন। গঙ্গা নদীর গোড়ায় গিয়ে দেখুন, ছোট্ট একটি খাল, এতটাই শরু, একলাফে এপার থেকে ওপারে আসা–যাওয়া করতে পারবেন সহজেই। জলপ্রপাতের গোড়ায় পৌঁছার সৌভাগ্য ঘটেছে আমার; ফোটা ফোটা বরফগলা জল, অথচ উক্ত ক্ষুদে ক্ষুদে দুর্বল ফোটাগুলো পরষ্পর মিলেমিশে একাকার হলে কতই না প্রলংকারী জলপ্রপাতে হতে পারে পরিণত।
চেতনাদৃপ্ত মানুষের ঢল ধুলিস্মাত করে দিল বিভাজনকারী ভিতি সঞ্চারক বার্লিন ওয়াল, তখন আমি স্বচক্ষে তা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ লাভ করি। চাই চিত্তে চেতনার আগুন জ¦ালিয়ে দেয়া। বাহারি পোশাক পরিচ্ছদ ধর্ম হতে পারে না, পারে না খাদ্য তালিকায় বদল করে রিলিফ চোরাকে সাধুসন্তে পরিণত করতে। কারো হাতে কোনো দায়িত্ব তুলে দেবার পূর্বে প্রয়োজন পড়ে তার হৃদয়ের পরীক্ষা নেয়া, যাকে সাক্ষাতকার মিটিং বলে চালিয়ে দেয়া হয়। যেহেতু মানুষ মানুষকে অতটা বুঝে উঠতে পারে না, তাই আলাপচারিতার দ্বারা তার হৃদয়ের অভ্যন্তরে প্রকৃত মটিফ (গড়ঃরভ) অর্থাৎ চারিত্রিক অবস্থান জেনে নেবার চেষ্টা করা হয়। তার পরেও রিলিফ বিতরনকারী লাভ করলো রিলিফ হরণকারী উপাধি। চাই এমন এলাজ যার দ্বারা সহজেই ঘটবে হৃদয়ের পরিবর্তন। হৃদয়ের মালিক ছাড়া আর কে রাখে তেমন ক্ষমতা? কালামপাকে তেমন একটি প্রতিজ্ঞা দেদীপ্যমান, আর তা হলো “আমি তোমাদের ভিতরে নতুন দিল ও নতুন মন দেব; আমি তোমাদের কঠিন দিল দূর করে নরম দিল দেব” (ইহিস্কেল ৩৬:২৬)। অংশটি সবিস্তারে পাঠ করার অনুরোধ রাখছি;
আমাদের নির্মাতা মহান হৃদয়ের মারিক, আমরা তাঁর নয়নের মণি। তিনি অদৃশ্য আর আমাদের দ্বারা হতে চান তিনি প্রতিভাত! আর সে কারণেই তিনি স্বীয় সুরতে আমাদের সৃষ্টি করলেন; নিজ হাতে মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করে তার নাকে ফুকে দিলেন প্রাণবায়ু, পুষ্ট করলেন ঐশি আশির্বাদে যোগ্য করে তুললেন তাঁর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। সৃষ্টির দিক দিয়ে আমরা রয়েছি তাঁর মালিকানাধীন আর পরবর্তী পর্যায় হারিয়ে যাওয়া আদম জাতিকে পুনরায় মুক্তপাপ করলেন বেগুনাহ মসিহ স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের দামে। তাই আজ আমরা দুইভাবেই হয়েছে তাঁর অধিকারের বিষয়, একান্ত নিজস্ব সম্পদ। আমাদের উপর আর কারো কোনো দাবি নেই। রক্তের দামে পাওয়া আমাদের স্বাধীনতা; কোনো কালেই নরঘাতী আমাদের আর ফিরিয়ে নিতে পারবে না পুনরায় দাসত্ত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করার জন্য। সর্বপ্রকার ঠুনকো ফতোয়া আজ পুড়ে ছাই হলো করোনার রোসানলে। করোনা এসে প্রমান করে দিল, আমরা সকলেই একই পরিবার, যে কোনো রোগব্যাধির সম্মুখে কেবল বলিরপাঠা। কেবল খোদার অশেষ রহমতে আমরা সকলে বেঁচে আছি। নিজেদের সার্বিক বাহাদুরী চরমভাবে পরাভুত। মাত্র ক্ষুদে একটি জীবাণু আজ গোটা বিশ^ করে তুলছে বিচলিত। কি আছে আমাদের গর্বের বিষয়? কালামপাকে বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে, পাপ থেকে মন ফিরাতে, খোদার বিশেষ সুখবরের উপর আস্থা স্থাপন করার জন্য।
২বংশাবলী ৭:১৪, ইশাইয়া ১: ১৮–২০, আলজবুর, ১০৩: ১০–১২, ১৩০ : ৩–৪, ইশাইয়া ৪৩ : ২৫, ৫৫ : ৭, মীখা ৭ : ১৮–১৯, মথি ৬ : ১৪–১৫, মার্ক ১১ : ২৫, লুক ৬ : ৩৭, প্রেরিত ৩ : ১৯, ইফিষীয় ১ : ৭–৮, কলসীয় ১ : ১৩–১৪।