শীতের শুরুতেই অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর হয়ে উঠেছে দাকোপের বিল–ঝিলগুলো। কিন্তু এই পাখি নিধনে স্থানীয় অসাধু শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা পাখির নকল ডাকের ফাঁদসহ নানা কৌশলে অসংখ্য অতিথি পাখি শিকার করছে। এসব পাখি আবার অগ্রিম অর্ডার নেওয়া খরিদ্দারদের কাছে অবাধে বিক্রিও করছে শিকারিরা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও নভেম্বর মাসে শীতের শুরুতে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের খাল বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসছে। পাখির কলকাকলীতে এ অঞ্চলের ছোট ছোট বিল–ঝিলগুলো হয়ে উঠছে মুখর। কিন্তু স্থানীয় পেশাদার অসাধু শিকারিরা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা পাখির নকল ডাকের ফাঁদে ফেলে অবাধে শিকার করে চলেছে অতিথি পাখি। এছাড়া তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাল, বিল, নদী ও মাঠ থেকে নাইলনের সুতার তৈরি ফাঁদ ও চোখে আলো ফেলে, কেঁচো দিয়ে বড়শি পেতে, কোচ মেরে ও কারেট জাল পেতেও পাখি শিকার করছে। এসব পাখি আবার অগ্রিম অর্ডার নেওয়া খরিদ্দারদের কাছে অবাধে বিক্রিও করছে। প্রচণ্ড শীত থেকে আত্মরক্ষার্থে সুদূর হিমালয়, সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান অঞ্চল থেকে অতিথি পাখি এ অঞ্চলে আসে। এসব পাখির মধ্যে বালি হাঁস, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালী কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, কাদা খোচা, ডংকুর, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়া অন্যতম। জানা গেছে, ৮০–র দশকে এদেশে আসা অতিথি পাখির সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রজাতি। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা নেমে ৬০ থেকে ৭০ চলে এসেছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েক জন শিকারি জানান, প্রতি রাতে ধানখেতে বসে মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা পাখির নকল ডাক অথবা নকল সুর মেলানো বাঁশি বাজিয়ে উড়ন্ত পাখি নিচে নামিয়ে ফাঁদে ফেলে অতি সহজে শিকার করছে। অগ্রিম অর্ডার নেওয়া খরিদ্দারদের কাছে পাখি প্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রিও করছে শিকারিরা।
পশ্চিম বনবিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, অতিথি পাখি শিকার বন্ধে কাজ করে আমাদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ। তার পরও খোঁজ–খবর পেলে শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, অতিথি পাখি শিকার বন্ধে আমাদের অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। তাছাড়া খোঁজ–খবর পেলে সেখানে গিয়ে অভিযান চালিয়ে এবং শিকারিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।