চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ও রাজশাহীর তানোরে পাগলা হাতির আক্রমণে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে ও বিকালে একই হাতির আক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন– নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের বুলবুল ইসলামের ছেলে মোসাব্বির (১২) ও রাজশাহীর তানোর উপজেলার ধামধুম জুমারপাড়া গ্রামের ললিতের ছেলে রামপদ (৪৫)।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন নাচোল থানার ওসি মিন্টু রহমান ও রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নেজামপুর ইউনিয়নের মানিকাড়া গ্রামের জনৈক মোশাররফের আমবাগানে দুটি হাতি আসলে অন্যদের সঙ্গে দেখতে যায় মোসাব্বির। একপর্যায়ে একটি পাগলা হাতি মোসাব্বিরকে আক্রমণ করে।
স্থানীরা জানান, এ সময় হাতিটি তার শুঁড় দিয়ে মোসাব্বিরকে পেঁচিয়ে চেপে ধরে মাটিতে আছাড় মারে। এতে ছিটকে পড়লে এলাকাবাসী গুরুতর আহত মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
এদিকে বিকালে নেজামপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী তানোর উপজেলার ধামধুম মৌজায় সবজিখেতে কাজ করছিলেন রামপদ। হাতিটি ধরার চেষ্টা করলে দুপুরে হাতিটি নাচোল উপজেলার সীমানা অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর তানোর উপজেলার ধামধুম জুমার পাড়ার দিকে চলে যায়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সবজিখেতে কাজ করা অবস্থায় রামপদ নামে ওই কৃষককে পেছন দিক থেকে হাতিটি অতর্কিত হামলা করে। এ সময় হাতিটি তার শুঁড় দিয়ে তুলে আছাড় দিয়ে রামপদকে হত্যা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত দুই দিনে কয়েকটি যানবাহনের ওপর আক্রমণ করেছে হাতি দুটি। স্থানীয়দের অভিযোগ নওগাঁ থেকে আসা সার্কাসের দুটি হাতি রাস্তায় মানুষ ও যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি করছিল। টাকা না দেওয়ায় মঙ্গলবার শ্রমিকবোঝাই একটি অটোরিকশাকে হাতি আক্রমণ করলে সেটি উল্টে যায়। এছাড়া এলাকার আমবাগান ও ধানখেত নষ্ট করে।
একটি হাতিকে এলাকাবাসী শেকল দিয়ে বেঁধে রাখলেও অপর হাতিটি এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হাতিটি ধরতে মানিকাড়া গ্রামে সকাল থেকে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হাতিটি ধরতে পারেনি। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে হাতির সঙ্গে থাকা ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিন্টু রহমান জানান, একটি হাতিকে আমনুরা শিমুলতলা মোড়ে আটক করেছেন গ্রামবাসী। অন্যটি এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। রাজশাহী থেকে বনবিভাগের লোকজন এসে হাতিটি আটকে অভিযান শুরু করেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত হাতিটি আটক করা সম্ভব হয়নি। হাতিটি ধরার জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা কৌশল পরিবর্তন করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ওসি।