শীত আসে শীত যায়। দিন গড়িয়ে রাতের বুকে নামে। কিন্তু সোনাভানের অভাব ফুরায় না। তার এই অভাব তো এক দিনের নয়। দশ বছরের পুড়নো অভাবী সোনাভান এখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। ৭০ বছরের এই বৃদ্ধার পেট চলে পিঠা বিক্রি করে।
সোনাভান জানালেন, শীত এলেই পিঠা বিক্রি শুরু করেন। আয়ের পয়সায় জোটে পেটের ভাত। বছরের অন্য সময় গৃহপরিচারীকার কাজ করে পেট চালান। তবে বয়সে ভাটা পড়ায় গৃহপরিচারিকার কাজেও এখন তার গুরুত্ব নেই।
জানা গেছে, বৃদ্ধা সোনাভানের বাড়ি গুরুদাসপুর পৌর সদরের আনন্দ নগর মহল্লায়। সেখানেই স্বামীর রেখে যাওয়া ছোট্ট ভিটায় বাস করছেন। নিঃসন্তান সোনাভানের স্বামী সাদেক আলী দশ বছর আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। সেই থেকে শুরু হয়েছে বৃদ্ধা সোনাভানের পেট বাঁচানোর লড়াই।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক সাজেদুর রহমান জানান, সংসারে সোনভানের কেউ নেই। নিজের পেটের তাগিদেই এখনো শ্রম বিক্রি করেন এই বৃদ্ধা। মূলত সোনাভানের জন্য শীত আসে আশির্বাদ হয়ে। শীতের পাঁচ মাস পিঠা বিক্রি করে চলে তার এক পেটের সংসার।
বৃদ্ধা সোনাভান বলেন, ঢেঁকিছাঁটা চালের গুড়ার সঙ্গে খেজুরগুড় মিশিয়ে ভাপা পিঠা তৈরি করেন। তৈরি করেন চিতই পিঠাও। গ্রামে হওয়ায় বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও তার পিঠা খায়। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ কেজি চালের পিঠা বিক্রি করেন। এতে খরচ বাদে ৫শ টাকার মতো আয় হয়। এই টাকাতেই মেটাতে হয় খাওয়া–দাওয়া ওষুধসহ অন্যসব চাহিদা।
তিনি বলেন, স্বামী হারানোর পর দীর্ঘ দশবছর অন্যের বাড়ি কাজ করে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন। অথচ বয়স্ক, বিধবা বা অন্য কোনো সরকারি সহায়তা পাননি তিনি। বয়স বাড়ায় বল–শক্তি কমেছে। কমেছে দৃষ্টিশক্তিও। একারণে তিনি আর অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পারেন না। বাধ্য হয়ে পিঠা বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন।
বুধবার সকাল ৭টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, আনন্দ নগর–খুবজীপুর প্রধান সড়কের স্কুল মোড়ে জ্বলছে সোনাভানের পিঠার চুলা। তার এই পিঠা খেতে ভিড় জমিয়েছে শিশু–বৃদ্ধ থেকে শুরু করে নানা বয়সি মানুষ। নিয়ম করে সকাল–সন্ধ্যায় এখানেই পিঠা বিক্রি করেন বৃদ্ধা সোনাভান।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজল উদ্দিন বলেন, খোঁজ নিয়ে বৃদ্ধা সোনাভনকে সরকারি সুবিধার আওতায় আনবেন তিনি।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রাবণী রায় জানান, সোনাভানের অসহায়ত্বের কথা তিনি জানতেন না। বৃদ্ধা সোনাভানকে সরকারি সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।