কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কোমড়ভাঙ্গী ভিটাপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজে আসছে না সেতুটি। সংযোগ না থাকার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ স্কুল–কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা। সড়কের অভাবে সেতুতে উঠতে বাঁশের তেরি মই ব্যবহার করছেন তারা। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, স্থানীয় ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০২১–২২ অর্থবছরে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার, নির্মাণ ব্যয় ৭০ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সড়ক না থাকায় সেতু পার হতে স্থানীয়রা ব্যবহার করছেন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের মই। দীর্ঘ দিন সেতুটি এভাবে সংযোগ সড়ক বিহীন থাকলেও সংশিল্ষ্ট কতৃপক্ষের কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
শিবেরডাঙ্গী এলাকার কৃষক মনির হোসেন বলেন, সেতুর দুপাশে মাটি না ফেলায় জমির উৎপাদিত ফসল বাড়িতে নিতে পারছি না। অযথাই সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী লিমন মিয়া, আসাদুল্লাহ, সুমাইয়া খাতুন, ফাতেমা খাতুন, আলপনা খাতুন ও মাজেদা খাতুন বলেন, প্রতিদিন বাঁশের মই দিয়ে সেতু পারাপার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সব সময় ভয়ে থাকি, কখন যেনো পড়ে যাই। দ্রুত সেতুটির দু’পাশে মাটি ভরাটের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ ও আব্দুল হামিদ বলেন, একপাশে সামান্য মাটি ও আরেকপাশে মাটি না ফেলায় কাজে আসছে না সেতুটি। এ কারণে ৪ কিলোমিটার ঘুরে কৃষিপণ্য হাট–বাজারে নিতে হয়। এতে বাড়তি টাকা গুনতে হয়।
কথা হয় রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের সঙ্গে। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, এখনও সেতুর চুড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারকে বলা হয়েছে, আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে চলাচলের উপযোগী করা হবে।