বাবুল মিয়া অন্যের এক একর জমি বর্গা নিয়ে রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। প্রথমে লকলকে সবুজ চারা দেখে ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর ধানের শিষ বের হলেই কপালে যেনো দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায় কৃষক বাবুল মিয়ার।
তিনি ক্ষেতে গিয়ে দেখেন ধানের অবস্থা ভালো না। ধানের শিষের গোড়া কাটা, কাণ্ড শুকিয়ে গেছে, অনেক ধান গাছের পাতা ছিদ্র হয়ে গেছে। কৃষক বাবুল মিয়া রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, বড় আশা নিয়া কষ্ট কইরা টাকা জমাইয়া জমি আদি (বর্গা) নিয়া ধান বুনছিলাম। জমির সব ধান নষ্ট হইয়া গেছে। বন্যার পানি থাইকা বাঁচলেও পোকার (লেদা পোকা) আক্রমণ থাইকা রেহাই পাইলাম না। এহন সংসার চালবো ক্যামনে এ চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।
তিন বিঘা (১৮০ শতক) জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন একই এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, লেদা পোকার আক্রমণে তার ধানের জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। ধানের শিষ বের হলেও তা দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পোকার আক্রমণে দিশেহারা তিনি।
শুধু কৃষক বাবলু মিয়া ও হাফিজুর রহমানের ধান ক্ষেতই লেদা পোকার আক্রমণ হয়নি। এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের হাজারও কৃষকের জমির ধান। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি আক্রমণ দেখা দিয়েছে যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর, ধনারচর নতুনগ্রাম, কাশিয়াবাড়ি, আলগারচর, খেওয়ারচর, রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইছাকুড়ি, চর ইছাকুড়ি, ইজলামারী, বারবান্দা, চুলিয়ারচর, পাটাধোয়াপাড়া, বাওয়াইরগ্রাম, দুবলাবাড়ী, মাদারটিলা, দেওকুড়া বিল (নীলের কুঠির) এলাকায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় রোপা আমন ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর। এর মধ্যে পোকার আক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রায় ৩ হেক্টর জমির ধান।
লেদা পোকার আক্রমণে ধান নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, লেদা পোকার আক্রমণে উপজেলার প্রায় ৩ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধান ক্ষেতে লেদা পোকার আক্রমণের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দিনে তাপমাত্রা বেশি ও রাতের তাপমাত্রা কম থাকায় ধানের গোড়ায় লুকিয়ে থাকে লেদা পোকা। এ পোকা শীষ কাটলেও ধান খায় না। আক্রান্ত ধান গাছের পোকার স্যাম্পল সনাক্ত করে ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।