ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর বন বিটের কাহালগাঁও গ্রামে এক একর বনের জমিতে রোপন করা চারাগাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ১৫ দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বন বিভাগ।
জানা গেছে, এনায়েতপুর বনবিটে ২৮শ ৮৩ একর জমির মধ্যে ২৫শ ৭৪ একর জমি এরই মধ্যে জবরদখল হয়ে গেছে। শুধু কাহালগাঁও গ্রামেই রয়েছে ১৪শ ৮২ একর জমি। তিন বছর ধরে জবরদখলে থাকা এক একর জমি সম্প্রতি বন বিভাগ উদ্ধার করে তাতে বনজ ও ফলজ চারা গাছ রোপন করে। এক সপ্তাহ পরে চারাগাছগুলো রাতের অন্ধকারে উপড়ে ফেলা হয়। এনায়েতপুর বন বিটের সাবেক বনবিট কর্মকর্তা রহুল আমীন গাছগুলো উপড়ে ফেলার স্বেচ্ছায় বদলী হয়ে চলে যায়। সে জানায়, ওখানে কাজ কাজ করার কোনো পরিবেশ নাই।
বর্তমান বনবিট কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানায়, গাছ উপড়ে ফেলার বিষয়টি তার জানা নেই।
উথুরা রেঞ্জ কর্মকর্তা রেদোয়ান আহমেদ জানায়, রাতের অন্ধকারে চারা গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সে কোনো উত্তর দেয়নি।
জানা গেছে, বনবিভাগের এক একর জমির পিছনে মেজর জামাল উদ্দিন নামের একজনের ৯ একর ২৯ শতাংশ জমি রয়েছে। বন বিভাগের জায়গা ছাড়া ওই জমিতেও প্রবেশ করতে পারবে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান লোকজন দিয়ে চারাগাছগুলো উপড়ে ফেলেছে বলে এলাকাবাসী জানায়।
জামাল উদ্দিনের কেয়ারটেকার আল আমিন জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান গাছগুলো উপড়ে ফেলার পর দলবল নিয়ে স্যারের সঙ্গে দেখা করেছে।
এ ব্যাপারে খলিলুর রহমান জানায়, আমার সঙ্গে জামাল উদ্দিনের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ওই কোম্পানি জমিগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করছে। তাদের সহযোগীতা করার জন্য ডাকা হয়েছিল।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ জানায়, বনের এক একর জমি থেকে চারাগাছগুলো উপড়ে ফেলার ১৫ দিনেও কেউ তাকে জানায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানায় সে।