স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজ জেলা মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১০০ শয্যার ডেঙ্গুর দুটি পৃথক ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪০ জন। ওয়ার্ডের ভেতর উপচে অভ্যন্তরীণ চলাচলের রাস্তা, সিঁড়ি, লিফটের সামনে ডেঙ্গু রোগীদের গাদাগাদি অবস্থান করতে হচ্ছে। বর্তমানে তিলধারণের ঠাঁই নেই ডেঙ্গু ওয়ার্ডে।
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মাত্রাতিরিক্ত ডেঙ্গু রোগীর চাপে ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মঙ্গলবারের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, ১০০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ছিল ১৪০ জন। ১ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিনে ৪৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ১০০২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিদিন শুধু এই হাসপাতালে গড়ে ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
সরেজমিন হাসপাতাল গিয়ে দেখা গেছে, আটতলা ভবনের ৬ তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক দুটি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সেখানের প্রতি ওয়ার্ডের রুমে সিটে, সিটের নিচে রোগী রাখা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে চলাচলের রাস্তায়, সিঁড়ি, লিফটের সামনে এমনকি সেখানে নার্সরা বসে ডিউটি করেন তার সামনেও ডেঙ্গু রোগীদের গাদাগাদি করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মানবেন্দ্র সরকার জানালেন, চিকিৎসক সংকটের পর বিরামহীনভাবে রোগীদের সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ২০১৭ সালে এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও জনবল সেই আগেরই রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জেলায় ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় নাকাল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে ডাক্তারদের। ২৫০ শয্যার জনবল কাঠামো নিরসনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট দফতরে পত্র দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জনবল স্বল্পতার কথা স্বীকার করে জানান, ২৫০ শয্যার জনবলের চাহিদা চেয়ে একাধিকবার পত্র সংশ্লিষ্ট দফতরে দেওয়া হয়েছে।