পূর্ব সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে একটি মহিষ মারা গেছে। সোমবার বিকালে ধানসাগর স্টেশনের মূর্তির খাল এলাকায় ঘটে এ ঘটনাটি। মহিষটি বাড়িতে ফিরে না আসায় খুঁজতে গিয়ে বনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকটা খাওয়া মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন মহিষের মালিক।
বাঘের আক্রমণে মৃত মহিষটি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের বনসংলগ্ন পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের শামছু হাওলাদারের বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন তালুকদার।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা খালে গোপনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মারা যান একই গ্রামের জেলে শিপার হাওলাদার (২২)। এর মাসখানেক আগে ওই গ্রামের সোবাহান পহলানের একটি মহিষ বনে ঘাস খাওয়ার সময় বাঘের আক্রমণে মারা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, বনের পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার তাদের মহিষগুলো সকালে বনে ছেড়ে দেয়। আবার বিকালে ফিরিয়ে আনেন। সোমবার বিকালে শামছু হাওলাদার তার মহিষ খুঁজতে গিয়ে বনের মধ্যে অর্ধেকটা খাওয়া অবস্থায় দেখতে পান কিন্তু তিনি বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে তা জানাজানি হয়ে যায়।
ইউপি সদস্য কামাল তালুকদার জানান, বনে যারা মহিষ চড়ান তাদের মধ্যে সামছু হাওলাদারের ৮টি, জাহাঙ্গীর তালুকদারের ৪টি, মুসা হাওলাদারের ৬টি এবং সোবাহান পহলানের ১০টি মহিষ রয়েছে। প্রতিদিন তাদের মহিষ বনে ঘাস খাওয়াতে পাঠান। তাদের নিষেধ করলেও শোনেন না।
ইউপি সদস্য কামাল তালুকদার আরও জানান, বনবিভাগের উদাসীনতার কারণে বনে অবাধে মহিষ–গরু চারানোর সুযোগ পাচ্ছেন বনের পাশের বাসিন্দারা। নজরদারি না থাকায় যে কেউ অবৈধভাবে বনে ঢুকে মাছ ধরছে। বনবিভাগকে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বাঘের আক্রমণে মহিষের মৃত্যু বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গত ১ অক্টোবর বন থেকে বাঘের আক্রমণে নিহত জেল শিপার হাওলাদারের মাথা উদ্ধারের পর সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। অবৈধভাবে বনে প্রবেশ এবং গবাদিপশু বনে না পাঠানোর জন্য পর দিন ২ অক্টোবর বনের পাশের প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখিত সময়ের পর কেউ এ ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।