সেবাধর্মী কাজ বা সেবাদানে যখন কেউ এগিয়ে আসে তখন তার গতি বেড়ে চলে যদি নিজেকে আর একটু হালকা করতে পারে। বোঝা নিয়ে চলতে গেলে ক্লান্তি আসে, গতি মন্থর হয়, বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে এবং গতিময়তা হারিয়ে ফেলে। তার উপর পথিকের বা সেবকের লক্ষ্য বিন্দু যদি একাধিক থাকে তবে তো সে মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। আমি অনেকের জীবনে আদর্শ ব্রত নিতে দেখেছি, এবং এও প্রত্যক্ষ করেছি, বাহুল্য কাজে জড়িয়ে পড়ে ওই ব্যক্তি কি মারাত্মকভাবেই না হয়েছে পতিত। আবার এও দেখার সৌভাগ্য জুটেছে, নিজেকে শুধরে নিয়ে ফালতু ঝামেলা ঝক্কি দূরে ছুড়ে মেরে কি অবলীলায়, গিরিখাত থেকে উঠে এসেছেন পাহাড়ের শৃঙ্গে।
‘জাহাজ ডুবি’ নতুন কোনো খবর হতে পারে না। যে ব্যক্তি সাগরে ভাসে তারইতো সলিল সমাধি হবার সম্ভাবনা থাকে। যে গিরি শৃঙ্গে চড়ে বেড়ায় গিরিখাতে পড়ার সম্ভাবনা তারই থাকে। তবে সাথে যদি এমন কিছু ব্যবস্থা থাকে যাতে পা পিছলে গেলেও ঝুলে থাকতে পারবে, তেমন ক্ষেত্রে সে বার বার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে এবং একদিন রবার্টব্রুশের ঊর্ণনাভের মতো লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছা সম্ভব হবে।
চাই আন্তরিকতা, ব্রতে দৃঢ়তা, নিরলস কর্ম এবং মহাশক্তিধর মাবুদের সাথে অদৃশ্য যোগসূত্র। আত্মপরিচয় অবশ্যই জানা থাকা চাই। আপনি যে একজন প্রতিভু বা প্রতিনিধি তা কি জানেন? কে আপনাকে উক্ত স্থানে বসিয়েছেন? কে আপনাকে এতোদূর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন? কে আপনাকে অভয়বাণী জানিয়েছেন এই বলে, তিনি আপনাকে কখনোই পরিত্যাগ করবেন না। কে আপনাকে বাছাই করেছেন, কাজে লাগিয়েছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন, আপনি প্রচুর ফলে ফলবতি হবেন এবং সে ফলগুলো টিকে থাকবে। ‘বর্তমানকার আপনি’ আর ‘অতীতের আপনি’, এর মাঝে দূরত্ব কতটুকু, আকার–আকৃতি ও মাজেজার তুলনাইবা কতটা তা একবার ক্ষতিয়ে দেখবেন কি? প্রিয় ভ্রাত: মনস্থির করে একাগ্রচিত্তে অভীষ্ট কর্মে ডুবে যান, পদস্খলনের ক্ষতি পুষে যাবে ও রটনা হওয়া অপবাদগুলো সুজলা–সুফলা শষ্য উৎপাদকারী পলিমাটির তলে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
আপনি কি গোবর দেখেছেন? শক্ত পাথরের উপর পড়ে থাকলে তা দুর্গন্ধ ছড়ায় আবার একই গোবর টমেটো অথবা যেকোনো ফলজ গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা হলে সুন্দর ফল উৎপাদন করে। পাপ বা পাপবোধ প্রত্যেকের জীবনে আছে, কালামে তাই ঘোষণা দিয়েছে, সকলেই পাপ করেছে এবং সকলেই পাপী। পাপ দুর্গন্ধ ছড়ায় যদি তা কঠিন হৃদয়ে জমা করে রাখা হয়, আবার ঐ একই পাপ অনুতপ্ত কোমল হৃদয়ে রাখা হলে ব্যক্তিকে বিনম্র করে ও তাকে ভালো কাজে অনুপ্রেরণা যোগায়। বিগত পতিত জীবনের জন্য আজ আমাদের অনুতপ্ত হতে হবে এবং নবউদ্যোগে নবশক্তিতে দেশ ও জাতিকে গড়ে তোলার মতো প্রেরণা যোগাতে হবে। সেবার মধ্যে বাণিজ্য মেশানো চলবে না। ওটা করলে কালো বিড়ালের মতো খাঁচায় বন্দি হতে হবে, বিগত অর্জন ম্লান হয়ে পড়বে। সাবধান!
রাক্ষুসে নেকড়ের গায়ে মেষের আবরণ পরানো চলবে না। অন্তরে অসাধু উদ্দেশ্য নিয়ে বাহিরে সাধুর বেশ পরিধান করে জনগণকে বোকা বানানো বা ধোকা দেয়া চলবে না। মেটালিক ডিটেক্টর দিয়ে যেমন আগ্নেয়াস্ত্র ধরা সম্ভব, তদ্রুপ পাক কালামের আলোকে মানুষের গোপন চিন্তাও ধরা সম্ভব। যে লোক পাকরূহের দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত তার কাছে মানুষের গোপন ফন্দি সহজেই ধরা পড়ে। মানুষের ক্ষতি করার মতো চিন্তা আসে কেবল অভিশপ্ত ইবলিসের কুমন্ত্রণায় আর মানুষের কল্যাণকামী চিন্তা জাগে পাকরূহের প্রেরণা ও উপস্থিতিতে। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ হলেন সেই পাকরূহ যিনি ঘোষণা দিয়েছেন তাঁর আগমণ হলো মানুষকে জীবন দান করার জন্য এবং সে জীবন যেনো পূর্ণাঙ্গ ও উপচেপড়া জীবন হয়।