সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২৪ জন শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৩৪ জনের মধ্যে ৩২ জন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ বুধবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে তাঁরা একে একে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। কারাফটকে তখন তাঁদের অভিভাবকেরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছে তাঁদের বুঝিয়ে দেয়।
কারাফটকে আগেই একটি বড় বাস এনে রেখেছিলেন অভিভাবকেরা। শিক্ষার্থীরা বের হয়ে দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। তাঁরা কারও সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা অভিভাবক আনোয়ারুল আলম বলেন, ‘ছেলেগুলো বেড়াতে এসে বিড়ম্বনায় পড়ল। তারা মুক্তি পেয়েছে—এতেই আমরা খুশি।’ চাঁদপুর থেকে আসা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছি, এতেই খুশি।’ অভিভাবকদের অনেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এর আগে বেলা একটায় সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফারহান সাদিকের আদালতে ৩৪ জনের জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ৩৪ জনের মধ্যে ৩২ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। অন্য দুজন শিশু হওয়ায় তাদের জামিন আবেদনের নথি শিশু আদালতে পাঠানোর কথা বলেন আদালত।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. তৈয়বুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। আইনজীবী তৈয়বুর রহমান বলেন, পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিল। আদালত সব শুনে ৩২ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। দুই শিশুর জামিন শুনানির বিষয়ে তিনি বলেন, শিশু আদালতে নথি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় শুনানি হয়নি। কাল (বৃহস্পতিবার) হবে।
-Advertisement-
Ads by
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন বুয়েটের শিক্ষার্থী আফিফ আনোয়ার, বখতিয়ার নাফিস, মো. সাইখ সাদিক, ইসমাইল ইবনে আজাদ, সাব্বির আহম্মেদ, তাজিমুর রাফি, মো. সাদ আদনান, মো. শামীম আল রাজি, মো. আব্দুলাহ আল মুকিত, মো. জায়িম সরকার, হাইছাম বিন মাহবুব, মাহমুদুর হাসান, খালিদ আম্মার, মো. ফাহাদুল ইসলাম, তানভির আরাফাত, এ টি এম আবরার মুহতাদী, মো. ফয়সাল হাবিব, আনোয়ারুল সিদ্দিকী, আলী আম্মার মৌয়াজ, মো. রাশেদ রায়হান, সাকিব শাহরিয়ার, ফায়েজ উস সোয়াইব, আবদুর রাফি ও মাঈন উদ্দিন। অন্যরা হলেন আবদুল বারি, মো. বাকি বিল্লাহ, মাহাদি হাসান, টি এম তানভির হোসেন, আশ্রাফ আলী, মো. মাহমুদ হাসান, মো. এহসানুল হক ও মো. আবদুল্লাহ মিয়া।
সরকারের বিরুদ্ধে ‘গোপন ষড়যন্ত্র ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার আশঙ্কায়’ গত রোববার বিকেলে টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ৩৪ জনকে আটক করা হয়। পরে সোমবার বিকেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা করে। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করলে বিচারক ৩২ জনকে কারাগারে এবং ২ জন কিশোর হওয়ায় তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত সবাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মী।
সরকারের বিরুদ্ধে ‘গোপন ষড়যন্ত্র ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার আশঙ্কায়’ রোববার বিকেলে টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে এই ৩৪ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা করে। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক ৩২ জনকে কারাগারে এবং ২ জন কিশোর হওয়ায় তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ৩৪ জনের মধ্যে ২৪ জন্য বুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছয়জন প্রথম বর্ষ, ছয়জন দ্বিতীয় বর্ষ, পাঁচজন তৃতীয় বর্ষ, পাঁচজন চতুর্থ বর্ষ এবং দুজন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বুয়েটের সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী। অন্য তিনজনের মধ্যে দুজন এবার এসএসসি পাস করেছে, একজন বুয়েটের এক শিক্ষার্থীর বাসায় কাজ করে।