এক তরুণীর কানের দুল নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিলেন ছিনতাইকারী। ওই নারী চিৎকার শুরু করলে দুই ব্যক্তি ছিনতাইকারীর পিছু নেন। একজন হাল ছেড়ে দিলেও অন্যজন ছিনতাইকারীর পিছু ছুটতে থাকেন। একপর্যায়ে কাছাকাছি পৌঁছালে ছিনতাইকারী ওই ব্যক্তিকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে পিছু না হটে ওই ব্যক্তি ‘ট্রাইপড’ দিয়ে আঘাত করলে ছিনতাইকারী মাটিতে পড়ে যান। তখন তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় কানের দুল।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন আরটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক বিল্লাল হোসেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি পিছু নিয়ে ছিনতাইকারীকে ধরেছেন। ছিনতাইকারীকে ধরার পর জানা গেল, ছিনতাইয়ের শিকার নারী নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ফাতেমা তাসনিম। কানের দুল ফিরে পেয়ে তিনি ওই ছিনতাইকারীকে ছেড়ে দিয়েছেন। পুলিশকে জানানো বা আইনগত কোনো ব্যবস্থা তিনি নেননি।
ছিনতাইয়ের শিকার ফাতেমা তাসনিম প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছিলেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে ওই ঘটনায় আহত নুরুল হককে দেখতে কাকরাইলে একটি হাসপাতালে এসেছিলেন। হাসপাতালের সামনে রিকশা থেকে নামার সময় ছিনতাইকারী তাঁর কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি ফাতেমা তাসনিম। কেন পুলিশে অভিযোগ দিলেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত মাসে তিনি শাহবাগ এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় অভিযোগও দিয়েছিলেন; কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে এবার আর তিনি এ বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি।
এ বিষয়ে সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের ঝামেলা এড়াতেই হয়তো গণ অধিকারের ওই নেত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী হননি।