পিঠের ব্যথার চিকিৎসা নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। আপাতত সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন তিনি। গতকাল বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় নামেন তামিম। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সেরে এরপর নিজের গাড়িতে করে বেরিয়ে যান। গণমাধ্যম কর্মীরা তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলে ‘হাই’ বলে কাঁচের গ্যাস নামিয়ে দেন তিনি।
আফগানিস্তান সিরিজ চলাকালীন আচমকা অবসরের পরদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নাটকীয়ভাবে ফিরে আসেন তামিম। তখন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার জন্য দেড় মাসের ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি কাটাতে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে দুবাই যান এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সেখান থেকে ২৫ জুলাই যান লন্ডনে। বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে গিয়ে তার সঙ্গে যোগ দেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরী। বিসিবি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, তামিমের পিঠের নিচের দিকের ব্যথার জন্য ইনভেসিব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। যেটা প্রচলিতভাবে ইনজেকশন। ইনজেকশন নিয়ে ফিরেই মাঠে নামতে পারছেন না সর্বশেষ ওয়ানডে স্কোয়াডের অধিনায়ক। আপাতত তাকে এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকা লাগবে। পরে ধীরে ধীরে করবেন জিম। স্কিল ট্রেনিংয়ে ফিরতে এই ক্রিকেটারকে আরও দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে। এই সময়ে আবার ব্যথা না ফিরলেই তবে মাঠে নামবেন। ব্যথা ফিরলে আবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে তাকে।
দীর্ঘদিন ধরেই তামিম যে কোমরের সমস্যায় ভুগছিলেন, লন্ডনে এবার তিনি সেটারই চিকিৎসা করিয়ে এসেছেন। তার সমস্যা মেরুদন্ডে কোমরের দিকের অংশে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যে অংশটিকে বলা হয় খ–৪ ও খ–৫। অস্ত্রোপচার করালে তামিমকে তিন–চার মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হতো। এরপরও যে তিনি পুরোপুরি চোটমুক্ত হতেন, তার নিশ্চয়তা ছিল না। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে তামিম স্বাভাবিকভাবেই সে পথে যাননি। তিনি দেশে ফিরেছেন লন্ডনে দুই দফা ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে।
আপাপপ আগামী এক সপ্তাহ পুরোপুরি বিশ্রামে থাকবেন তামিম। পরের এক সপ্তাহ একটু একটু করে ফিটনেস এবং পুনর্বাসনের কাজ করবেন। এই কাজটা কী প্রক্রিয়ায় হবে, হ্যামন্ডের পরামর্শমতো সেটি ঠিক করে দেবেন বিসিবির চিকিৎসক ও ফিজিও–ট্রেনাররা। বিশ্রাম এবং বিশ্রাম–পরবর্তী কয়েক দিন যদি তামিম ব্যথামুক্ত থেকে পার করতে পারেন, তাহলে আশা করা যায়, আগামী ১২ থেকে ১৪ দিন পর তিনি পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারবেন।
তবে ব্যথানাশক ইনজেকশন কত দিন তামিমকে ব্যথামুক্ত রাখতে পারবে, সে নিশ্চয়তা নেই। এর মেয়াদ হতে পারে এক থেকে তিন–চার মাস পর্যন্ত। তবে এর আগেই যদি তিনি আবার কোমরে সমস্যা অনুভব করেন, সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দিতে হবে অনুশীলন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে আরেকটি ইনজেকশনের। কোমরে ব্যথা থাকলেও সেটা তামিম ব্যাটিংয়ের জন্য ঝুঁকলেই বেশি অনুভব করেন। দৌড়ানো বা অন্য কিছুতে ব্যথা তেমন অনুভ‚ত হয় না। এ ছাড়া হ্যামন্ডের কাছে ইনজেকশন নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনি ভালো বোধ করছেন বলেই জানা গেছে।
এদিকে এশিয়া কাপ সামনে রেখে ৮ আগস্ট থেকে স্কিল অনুশীলন শুরু করবে বাংলাদেশ দল। শুরু থেকে তামিমের তাই তাতে থাকা হচ্ছে না।