অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে চলমান নারী ফুটবল বিশ্বকাপে সম্প্রতি নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন মরক্কোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নোহাইলা বেনজিনা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে রবিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে মরক্কো। সেই ম্যাচেই হিজাব পরে খেলতে নেমে ইতিহাস গড়েন মরক্কোর এই ডিফেন্ডার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১–০ গোলের জয় পেলেও সেই জয় ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বেনজিনার হিজাব পরে খেলতে নামার ঘটনা।
কয়েক বছর আগ পর্যন্ত মাথা ঢেকে মাঠে নামা ছিলো ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নীতিমালা বহির্ভূত। ২০০৭ সালে এই নীতিমালা প্রণয়ন করে ফিফা। এর পাঁচ বছর পর ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ফিফাও সেই পথে হাঁটে। হিজাব পড়ে ফুটবল খেলতে নামার নিয়ম বৈধতা পেলেও রবিবার আগ পর্যন্ত বি্শ্বকাপে কোনো নারী ফুটবলারকে এই ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। ফুটবলে হিজাব নিষিদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে ছিল আঘাতের শঙ্কা। তাছাড়া এই পোশাক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা বহন করে এমন যুক্তিও ছিল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে।
নোহাইলা বেনজিনা ১৯৯৮ সালের ১১ মে তারিখে মরক্কোর কেনিত্রা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ২০ বছর বয়সে ২০১৮ সালে তিনি মরক্কো জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা শুরু করেন তিনি। মরক্কোর অ্যাসোসিয়েশনের স্পোর্টস অব ফোর্সেস আর্মড রয়্যালের (আসফার) হয়েও খেলেছেন বেনজিনা। তার ক্লাব মরক্কোয় মেয়েদের লিগে টানা আটবারের চ্যাম্পিয়ন।
বেনজিনার হিজাব পরে খেলার সমর্থনে মরক্কোর অধিনায়ক গিজলেন চেবাক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ আরববিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মেয়েদের বিশ্বকাপে আমরা খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। বিশ্বকাপ খেলতে পারা আমাদের কাছে গর্বের। দেশ ও দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশ্বের ধারণা উন্নত করার গুরুদায়িত্ব এখন আমাদের কাঁধে।’
মরক্কোর প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষেই ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন বেনজিনা। তবে সেই ম্যাচে তাকে মাঠে নামা হয়নি তার। মরক্কো নারী দলের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ে ফেলেন বেনজিনা। রবিবার ম্যাচের শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন রক্ষণভাগের এই খেলোয়াড়। হিজাব পরে মাঠে নামায় বেনজিনার প্রশংসা করে মুসলিম উইমেন ইন স্পোর্টস নেটওয়ার্কের সহ–প্রতিষ্ঠাতা আসমা হেলাল বলেছেন, ‘বেনজিনাকে দেখে মুসলিম সম্প্রদায়ের মেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু ফুটবলাররা নয়। কোচেরা ও অন্য খেলার নারী খেলোয়াড়রাও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হবে।’