পেটসিটি মেশিনের মাধ্যমে জটিল ক্যানসার নির্ণয়ের পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু মেশিনটি চট্টগ্রামে সরকারি–বেসরকারি কোথাও নেই। অত্যন্ত ব্যয়বহুল পরীক্ষাটি করার ঢাকার বাইরে ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করতে গেলে একটি পরীক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। চমেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রে ক্যানসারের দু–একটি পরীক্ষা সুবিধা থাকলেও চমেক হাসপাতালে ক্যানসার নির্ণয়ের সুবিধা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রে পেটসিটি মেশিন বসানোর কাজ চলছে। মেশিনটি স্থাপিত হলে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় রোগীরা পরীক্ষা করতে পারবেন।
চমেক হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসার একটি ওয়ার্ড রয়েছে। কিন্তু এই ওয়ার্ডে ক্যানসার পরীক্ষার কোনো চিকিৎসা উপকরণ নেই। ক্যানসারের পরীক্ষাগুলোও ব্যয়বহুল। সরকারি হাসপাতালে ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষাগুলো করতে হচ্ছে। এখানে ক্যানসার চিকিৎসার উপকরণেরও সংকট রয়েছে। ক্যানসার চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে।
চমেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পরমাণু শক্তি কমিশনের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (নিনমাস) নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। পরমাণু চিকিৎসা এবং আলট্রাসাউন্ড কেন্দ্র হিসাবে এটি ১৯৭০ সালে কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২০০৮ সালে কেন্দ্রের আধুনিকায়ন করা হয়। চমেক হাসপাতালের মূল ভবনের পেছনে নির্জন স্থানে পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রটি অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয়ের কয়েকটি ভারী চিকিৎসা উপকরণ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয়ের ৩০টি পরীক্ষা হয়ে থাকে। কিন্তু সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিতি নেই। সাধারণ মানুষ জানেন না এই প্রতিষ্ঠানের জটিল রোগ নির্ণয়ের সুবিধা আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে দক্ষ জনবল রয়েছে। পরীক্ষার ফি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক কম।
চমেক হাসপাতালের মূল ভবনের পেছনে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থান। একেবারে নির্জন স্থানে। মানুষ মনে করেন এটি চমেক হাসপাতালের কোন বিল্ডিং। প্রতিষ্ঠানের বাইরে দৃশ্যমান কোনো সাইনবোর্ড নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তারা পরীক্ষার জন্য ছুটে যাচ্ছে।
এই কেন্দ্রে থাইরয়েড সংক্রান্ত রোগ যেমন–হাইপারথাইরয়েড, হাইপোথাইরয়েড এবং থাইরয়েড ক্যানসার রুগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থার মূল্যায়নসহ লিভার, প্যানক্রিয়াস, কিডনি, মূত্রথলি, জরায়ু, ডিম্বাশয়, প্রোস্টেট, থাইরয়েড, ব্রেইন ইত্যাদির পরীক্ষা করা হয়। কালার ডপলার পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তনালির বিভিন্ন রোগসমূহ, গর্ভাবস্থায় ভ্রুণের রক্ত প্রবাহ এবং রক্ত প্রবাহের হ্রাস–বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন প্রকার স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক টিস্যু–এর পার্থক্য নিরূপণ করা হয়। সিটি স্ক্যান পরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও বক্ষপিঞ্জর এবং পেটের বিভিন্ন রোগ সনাক্তকরণসহ এর বিস্তার নিরূপণ করা হয়।
এছাড়া চক্ষু রোগীকে স্ট্রনশিয়াম–৯০ বিটা–অ্যাল্পিটের–এর মাধ্যমে বিটা রেডিয়েশন প্রদান করে টেরিজিয়াম, করনিয়াল ভাসকুলারাইজেশন, কনজাংস্টিভাইটিস রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এই পরীক্ষাগারে রয়েছে রোগ নির্ণয়ের গামা ক্যামেরা, সিটি স্ক্যানার, থাইরয়েড স্ক্যানার, আলট্রাসনোগ্রাম, কালার ডপলার ও ইন ভেট্রো ল্যাব। প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ক্যানসার পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর জন্য পেটসিটি নামে নতুন মেশিন সংযোজন করা হচ্ছে। পেটিসিটি মেশিন স্থাপনের জন্য আলাদা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ করে মেশিন স্থাপনে প্রায় দেড় বছর সময় লাগবে।
সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে কয়েক শত–কোটি টাকার ভারী চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের একটি সৃজনকৃত পদ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত্ পদটি খালি রয়েছে। মোট ৪৭ জন জনবলের মঞ্জুরিকৃত পদের মধ্যে ২৯ জন কর্মরত রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, এখানে কম খরচে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। পেটসিটি মেশিন বসানো গেলে চট্টগ্রামে ক্যানসার চিকিৎসায় সুবিধা বাড়বে।