এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধানে রাজশাহী নগরের ১৫টি এলাকার ৭৫টি বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে পরীক্ষায় ২৮টিতেই এডিসের লার্ভা মিলেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল সাত দিন ধরে এ নমুনা সংগ্রহ করে। গতকাল সোমবার নমুনা পরীক্ষার পর এডিস মশার লার্ভা পায় দলটি।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, তাঁরা কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জমানো পানি সংগ্রহ করেছেন। সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তাঁরা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগকে আজ একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা এ বিষয়ে মানুষকে সচেতনতার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।
হাবিবুল আহসান তালুকদার আরও বলেন, রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবাই বাইরে থেকে এসেছেন। তবে এখান থেকেও যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হবে না, তা বলা যাচ্ছে না। সম্ভাব্য আশঙ্কা ধরে নিয়েই আগে থেকেই তাঁরা সচেতন হলে পরিস্থিতি সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ছাড়া তাঁরা উপজেলা পর্যায়েও সচেতন হওয়ার জন্য সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে চিঠি দিয়েছেন। এ সময়ে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জানা গেছে, ১৪ জুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। আজ পর্যন্ত ৪৯ জন রোগী ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন ইতিমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি আছেন চারজন। এখন পর্যন্ত ভর্তি হওয়া সবাই বাইরে থেকে আসার পর জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে¦পরীক্ষায় তাঁদের ডেঙ্গু ধরা পড়ে।
এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ গত কয়েক দিন ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করছে। তাঁরা ইতিমধ্যে ৩০টি ওয়ার্ডে সচিবদের ডেকে সভা করেছেন। সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নগরের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ড্রেনগুলোর যেন পানি প্রবাহ ঠিক রাখা হয়।
এদিকে আগামী বুধবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত ১২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। জ্বর আক্রান্ত যে কেউ এ কেন্দ্রে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ জন্য ওই ব্যক্তিকে কিটের মূল্য ১৬০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানের ত্রিপলের ছাউনির ওপর জমা বৃষ্টির পানি। এখান থেকে জন্ম নিতে পারে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা। মঙ্গলবার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়ছবি: প্রথম আলো
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, তাঁরা শুনেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ নগরে এডিস মশার লার্ভা আছে কি না, তা নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করছেন। কিন্তু তাঁদের চিঠি এখন পর্যন্ত তাঁদের হাতে আসেনি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সভা করেছেন। সবাইকে সচেতন করার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। কোনো জায়গায় যেন পানি জমে না থাকে, ড্রেনগুলোর পানি যেন প্রবাহ থাকে, সবকিছু বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বুধবার থেকে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে।