সিলেটের পরিবহনের শ্রমিক ও মালিকদের বুধবার সকাল ছয়টা থেকে ডাকা পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকেরা।
ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। এতে পুলিশ সুপার, পরিবহনের মালিক, শ্রমিক ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জিয়াউল কবির। এ বিষয়ে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের সমঝোতা এবং সম্মতির ভিত্তিতে বুধবার সকাল থেকে সিলেট জেলায় ডাকা পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। ধর্মঘট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বুধবার সব ধরনের যানবাহন চলাচল করবে।
এর আগে জৈন্তাপুরে গত শুক্রবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ যাত্রী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার সকাল ছয়টা থেকে ধর্মঘট ডেকেছিলেন পরিবহনের নেতারা।
জানা গেছে, সিলেটের জৈন্তাপুরে গত শুক্রবার রাতে বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। হয়নি মরদেহের ময়নাতদন্তও। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা চেয়েছিলেন, দুর্ঘটনাটির জন্য যাঁরা দায়ী, সেই বাসের মালিক–শ্রমিকদের প্রতিনিধি হয়ে কেউ এসে তাঁদের প্রতি সহমর্মী হোক। তবে তেমনটা হয়নি। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা সালিসের মাধ্যমে চেয়েছিলেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহনের অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের ছাঁটাই করতে। এ জন্য তাঁরা গত রোববার সিলেট–তামাবিল মহাসড়কে কিছু বাস ও মিনিবাস আটকে দেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সিলেটের পরিবহন মালিক–শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা।
অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের ছাঁটাইয়ের লক্ষ্যে সিলেট–তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস আটকে দেওয়ার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সিলেট–তামাবিল মহাসড়কে দ্বিতীয় দিনের মতো পরিবহন ধর্মঘট পালন করেছেন মালিক ও শ্রমিকেরা। সড়কটি দিয়ে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রেখেছেন তাঁরা। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলাচল করা যাত্রীরা; জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, জাফলংসহ আশপাশের হাজারো বাসিন্দা এবং এসব এলাকায় ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা।
ধর্মঘট ডাকার পাশাপাশি সিলেট জেলা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার আবেদন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাস আটকানোর ঘটনায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন—এমন অভিযোগ এনে কামাল আহমদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পরিবহনের মালিকেরা।
উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহতের জেরে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বাস আটকেছিলেন। এর দায় এখন এককভাবে তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে।
গত সোমবার থেকে পরিবহনের শ্রমিক ও মালিকেরা দুই দফা দাবিতে সিলেট–তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়কে পরিবহন ধর্মঘট পালন করছিলেন। তবে তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এরই জেরে জেলাজুড়ে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরিবহন নেতারাও মূলত দুটি দাবি নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার, অপরটি সিলেট–তামাবিল মহাসড়কে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলতে দেওয়া।