নগরীতে একটি মুদি দোকানে অবৈধভাবে মজুত রাখা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আড়াই হাজার লিটার সয়াবিন তেল আটক করা হয়েছে। ঐ দোকানের মালিকসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।র্যাব জানিয়েছে, ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য টিসিবির সরবরাহ করা তেল খোলাবাজারে বিক্রি না করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে নগরীর খুচরা ভোগ্যপণ্য বিক্রেতা মুদির দোকানে, যার সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক বা একাধিক কাউন্সিলর জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি র্যাব তদন্ত শুরু করেছে।
র্যাব সূত্র গতকাল মঙ্গলবার জানায়, গত সোমবার রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বিসিএসআইআর গবেষণাগারের বিপরীতে কালাম স্টোরে অভিযান চালিয়ে সয়াবিন তেল উদ্ধারের পাশাপাশি চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—খোরশেদ আলম (৪০), আব্দুস সালাম (৪৭), মো. নয়ন (২২) ও আল হাদীস (২৪)। এদের মধ্যে খোরশেদ আলম কালাম স্টোরের মালিক।
র্যাববের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টিসিবির সয়াবিন তেল মজুতের সংবাদ পেয়ে কালাম স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানের ভেতর থেকে একাধিক বোতলে ভর্তি মোট ২ হাজার ৫৫২ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। এসব বোতলে টিসিবির লোগো লাগানো ছিল। এ সময় দোকানের মালিক খোরশেদসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সদর ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, টিসিবির সয়াবিন তেল খোলাবাজারে ১০০ টাকায় প্রতি লিটার বিক্রির কথা। কিন্তু গ্রেফতার খোরশেদ জানিয়েছেন, তারা অবৈধ পন্থায় সংগ্রহ করা এসব তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতেন। তবে বাজারের অন্যান্য ব্র্যান্ডের চেয়ে কম দামে। এতে দ্রুত এসব তেল বিক্রি হয়ে যেত। আবার টিসিবির লোগো ফেলে অন্যান্য ব্র্যান্ডের লোগো লাগিয়ে বাড়তি দামেও বিক্রি করতেন।
গ্রেফতার চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও টিসিবি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে র্যাব কর্মকর্তা মাহফুজ আরো বলেন, ‘টিসিবির তেল তারা কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। কাউন্সিলরদের কাছে তালিকাভুক্ত দরিদ্র শ্রেণির লোকজনের কাছে বিক্রির জন্য টিসিবি যে তেল সরবরাহ করে, সেগুলো তারা সংগ্রহ করে দোকানে মজুত করে রেখেছিলেন। কাউন্সিলরদের বিষয় আমরা তদন্ত করে দেখছি।’