প্রশ্ন : মানুষ কীভাবে বায়ুপ্রবাহকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করে?
উত্তর : মানুষ নানাভাবে বায়ুপ্রবাহকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করে। যেমন– * বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে বড় চরকা বা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। * মানুষ শরীর ঠান্ডা রাখতে হাতপাখা বা বৈদ্যুতিক পাখার বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে। * বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে নদীতে পাল তোলা নৌকা চলে। * কোনো ভেজা বস্তু যেমন– ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য বায়ুপ্রবাহকে ব্যবহার করা হয়। * ভেজা চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রয়ারের বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করি।
সুতরাং, দৈনন্দিন জীবনে বায়ুপ্রবাহে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যবহার রয়েছে।
প্রশ্ন : মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কী?
উত্তর : মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক। বায়ুদূষণের ফলে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন– * ফুসফুসের ক্যানসার। * শ্বাসজনিত রোগ (হাঁপানি)। * হৃদরোগ (উচ্চ রক্তচাপ) * হাঁচি–কাশি।
* অ্যালার্জি। * ব্রঙ্কাইটিস। * হাম, যক্ষ্মা, বসন্তের মতো নানা বায়ুবাহিত রোগ ছাড়ায়। * সিসাযুক্ত ধোঁয়া শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রক্তে সিসার পরিমাণ বেড়ে গেলে ক্ষুধা কমে যায়, রক্ত স্বল্পতা দেখা যায়। কিনডি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের অসুবিধা দেখা দেয়। রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়।
প্রশ্ন : বায়ুদূষণ প্রতিরোধের তিনটি উপায় লিখ।
উত্তর : বায়ুদূষণ প্রতিরোধের তিনটি উপায় নিচে দেয়া হলো– * শক্তির ব্যবহার কমিয়ে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পারি। যেমন– বাতি বন্ধ রাখা, গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করা ইত্যাদি। * প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমিয়ে, পুনঃব্যবহার করে ও রিসাইকেল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা দূষণ প্রতিরোধ করতে পারি। * ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করে এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমেও বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে পারি।
সুতরাং, ওপরের নিয়মগুলো পালনের মাধ্যমে আমরা বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করতে পারি।
প্রশ্ন : বায়ুদূষণের কারণ কী?
উত্তর : বায়ুদূষণের কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো–
* মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ, বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো। এর ফলে বায়ুতে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস নির্গত হয়। * কলকারখানা ও যানবাহনের নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করে।
* গাছপালা পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন ধোঁয়া থেকেও বায়ুদূষণ হয়। * যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জন ফেলা ও মলমূত্র ত্যাগের কারণে বায়ুতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং বায়ু দূষিত হয়। * আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ধুলাবালি ইত্যাদির কারণেও বায়ু দূষিত হয়।
সুতরাং মানুষের নানা কর্মকাণ্ড, জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ও কিছু প্রাকৃতিক কারণে বায়ু দূষিত হয়।
প্রশ্ন : ভেজা কাপড় যত দ্রুত সম্ভব শুকানো প্রয়োজন। কিন্তু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরের ভেতর কীভাবে দ্রুত কাপড় শুকাতে পারি?
উত্তর : রোদ বা সূর্যের আলো এবং বায়ুপ্রবাহ ভেজা কাপড়কে শুকাতে পারে। যেহেতু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে এবং ঘরের ভেতরে কাপড়টি শুকাতে হবে সেহেতু রোদ বা সূর্যের আলো পাওয়া যাবে না। তাই বায়ুপ্রবাহের গতিকে বাড়িয়ে দ্রুত কাপড়কে শুকানো যেতে পারে।
ঘরের দরজা–জানালা বন্ধ করে রাখলে বায়ুপ্রবাহের গতি কমে যায়। ঘরের ভেতরের আবদ্ধ বায়ু ভেজা কাপড়ের পানিকে দ্রুত জলীয়বাষ্পে প্ররিণত করতে পারে না। তাই ঘরের দরজা–জানালা খুলে দিলে ভেতরের জলীয়বাষ্প পূর্ণ বাতাস দরজা–জানালা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং বাইরে থেকে কম আর্দ্র বা কম জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কাপড় থেকে বেশি করে পানি শোষণ করে দ্রুত কাপড়কে শুকানো যেতে পারে। বায়ুপ্রবাহের গতিকে বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক পাখা ছাড়া যেতে পারে।