নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায়ই ঢুকে পড়ছে বন্যহাতির দল। এতে রাতের পর রাত নির্ঘুম সময় পার করছে সীমান্তবর্তী মানুষ। এই বুঝি হাতির দল গ্রামে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করবে। হাতে টর্চলাইট ও শব্দ বাজিয়ে হাতি ঠেকাতে রাতে ঘরের বাইরে থাকছেন অনেকে।
সীমান্তের ওপার থেকে আসা ভারতীয় বন্যহাতির দল নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দুই দিন ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সীমান্তে বসবাসরত হাজারো মানুষ। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামে হাতির দল অবস্থান করেছে বলে খবর পাওয়া গেলে হাতি ঠেকাতে ঘরের বাইরে হাজারো গ্রামবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া ও সদর ইউনিয়নের বিজয়পুর, আড়াপাড়া, ছনগড়া, রানীখং, ভাংতিরপার, ভবানীপুর, বাদামবাড়ী, দাহাপাড়া, ফাড়ংপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্য হাতির দল। দলে থাকা প্রায় ৩০–৩৫টি হাতি দিনে পাহাড়ি উঁচুনিচু টিলায় থাকলেও সন্ধ্যা হলেই ঢুকে পড়ছে গ্রামের বসতিস্থলে। বন্যহাতির তাণ্ডবে গত কয়েক বছরে সীমান্তের গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি, ফসল, গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাতির আক্রমণে আহত ও নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। এজন্য চরম আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে গ্রামবাসী।
বিজয়পুর গ্রামের হৃদয় মিয়া ও অবণী কান্ত হাজং জানান, দুই দিন ধরে হাতির আতঙ্কে রাত কাটে নির্ঘুমে। কখন যে কার বাড়িতে আক্রমণ শুরু করে এই আতঙ্কে থাকছি। বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। দুর্গাপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, আমাদের লোকজন ঐ এলাকায় অবস্থান করছেন। গ্রামের মানুষকে সতর্ক থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে।